সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: নির্বাচনে ভরাডুবির পর সঙ্গছাড়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিধায়ক থেকে শুরু করে লোকসভা কিংবা রাজ্যসভার সাংসদ, বেইমানি করেছেন প্রত্যেকে। হাতে গোনা কয়েকজন এমপি এবং এমএলএ এখনও পর্যন্ত কালীঘাটের মাটি কামড়ে পড়ে রয়েছেন। যাঁদের নাম উল্লেখ না করলেই নয় তাঁরা হলেন কুণাল ঘোষ, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র প্রমুখ। এদিকে নিজেদের সদস্যপদ টিকিয়ে রাখতে কাদা ছোঁড়াছুড়ি করছেন এনসিপিআই সাংসদরা। সেই আবহে বিরোধীদের এবার চরম কটাক্ষ করলেন কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)।
তৃণমূল ত্যাগী বিধায়ক, সাংসদদের একহাত নিলেন কুণাল
এবারের নির্বাচনে পরাজয়ের পর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৈরি হয় নব্য তৃণমূল। ৬০ এর বেশি বিধায়কের সমর্থন নিয়ে তাঁরাই বিরোধী দলের তকমা পায় বিধানসভায়। অন্যদিকে লোকসভার ২০ জন সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে যোগদান করেন এনডিএ সমর্থিত দল এনসিপিআইতে। এমনকি তাঁরা খুব শীঘ্রই বিজেপিতে যোগদান করতে পারেন বলেও চলছে জল্পনা। তার পাশাপাশি দলের প্রতীক এবং নাম দুটোই হারিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে বিজয়া দশমীর দিন এনসিপিআই সাংসদ এবং ঋতব্রত তৃণমূলের বিধায়কদের তুলোধোনা করলেন কুণাল।
এক্স হ্যান্ডেলের একটি পোস্টে আজ বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক লিখেছেন, “গদ্দার এমপি, এমএলএ এবং তাঁদের কয়েকজন বিভিন্ন স্তরের সঙ্গীকে বলছি, যাঁর মঞ্চ থেকে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করলেন, এবার বিজয়ায় সেই মমতা ব্যানার্জিকে প্রণাম করতে বা সৌজন্য করতে যাবেন তো? নাকি যাবার মুখ নেই? যদি না যান, তাহলে ধরে নিতে হবে এই অকৃতজ্ঞগুলোর জন্মের দোষ ছিল। এরা দরকারে নিজেদের মা-বাবার নাম বদল করতেও ছাড়বে না।”
আরও পড়ুন: জনসমর্থনের অভাবেই জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আন্দোলন স্থগিত সিজেপির? জানুন আসল কারণ
পাশাপাশি গতকালও দিল্লির এনসিপিআই সাংসদদের কটাক্ষ করে কুণাল লেখেন, “দিল্লির ধোপাবাড়ি যাওয়া বেইমানগুলো নিজেদের দলীয় অবস্থান জানাতে পুজোকে ছুতো করে আরও দুই সপ্তাহ সময় চেয়ে চিঠি দিয়েছে। এদিকে কলকাতায় মোদিজি আর শুভেন্দুর ছবিসহ ২০ জনের মুখ দিয়ে এনসিপিআই পোস্টার, হোর্ডিং করতে দিয়েছে। কোনও এক ‘বন গয়া জেন্টলম্যান’ নাকি করে দিচ্ছে। লক্ষ্য পুরভোটে তাঁর ছেলের টিকিট। বিজেপির বেলেঘাটার কর্মীরা মানবে তো?…. যাঁরা বাহুবল, অর্থবলে তৃণমূলটাকে চুষে খেয়েছে, তাঁরাই এখন বিজেপি বা এনসিপিআই-র মাধ্যমে বিজেপি দখল করতে চলছে। বিজেপির নেতা-কর্মীরা ভেবে দেখবেন।”










