সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মেড ইন ইন্ডিয়া প্রযুক্তি ক্রমশ বিস্তার লাভ করছে। তবে এবার দেশীয় পণ্য কেনাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার অনুরোধ জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। কালীপুজোয় চিনা বাল্ব কেনার থেকে দেশের মাটির প্রদীপ যাতে সকলে কেনেন, সেই অনুরোধই করেছেন তিনি। এমনকি তিনি বলেন, “ভোকাল ফর লোকাল।” কুম্ভকারদের পাশে দাঁড়িয়েই বড় বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে তাঁর সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এবার কড়া ভাষায় আক্রমণ করল বামেরা।
মুখ্যমন্ত্রীকে বাবা তুলে আক্রমণ বামেদের
বৃহস্পতিবার এক জনসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “সবুজ বাজি কিনবেন। খুব ভালো করে দীপাবলি পালন করুন। আর একটা কথা বলব, চিনের টুনি বাল্বগুলি কিনবেন না। টাকাগুলো দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। আমাদের কুম্ভকারদের কাছ থেকে মাটির প্রদীপ কিনুন। ভোকাল ফল লোকাল। কুম্ভকারেরা দীর্ঘদিন ধরেই মাটির প্রদীপ বানায়। এখন সব দোকানেই পাওয়া যায়। আমি কালকে গিয়েছিলাম হুগলিতে। ৪০০ টাকা দিয়ে মাটির প্রদীপ কিনে নিয়ে এসেছি। আপনারাও কিনুন। কুম্ভকারদের বাঁচিয়ে রাখতে হবে।”
তবে চিনা পণ্য কিনতে নিষেধ করায় একেবারে ‘তেলে বেগুনে জ্বলে’ উঠেছে বামেরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় মুখ্যমন্ত্রীর সেই বক্তব্যকে কটাক্ষ করে এদিন কার্যত তাঁর বাবাকে টেনে আক্রমণ করেছে তারা। ফেসবুক পোস্টে শনিবার আদানি গ্রুপের ছবি এবং মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যকে পাশাপাশি রেখে সিপিআইএম ওয়েস্ট বেঙ্গলের তরফ থেকে লেখা হয়েছে, “আগে বাপকে গিয়ে বল চিনের কোম্পানি না কিনতে।” স্বভাবতই মুখ্যমন্ত্রীর বাবা তোলাতে ছেড়ে কথা বলতে নারাজ গেরুয়া শিবিরের নেতারা।
আরও পড়ুন: অভিষেককে রক্ষাকবচ দেওয়ার জের, হাইকোর্টের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সর্বোচ্চ আদালতে রাজ্য
এ বিষয়ে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি রিসার্চ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ডক্টর অনির্বাণ গাঙ্গুলী এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “কমিউনিস্ট জোকাররা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। তারা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ৮৫ বছর বয়সী পিতা শ্রী শিশির অধিকারীকে টেনে এনেছে। কারণ, মুখ্যমন্ত্রী কমিউনিস্টদের রাজনৈতিক পিতা চিনের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। এই একই কমিউনিস্টরা ১৯৬২ সালের ভারত-চিন যুদ্ধে চিনকে সমর্থন করেছিল। তারা ক্যাডারদের নির্দেশ দিয়েছিল যেন তারা আহত ভারতীয় সৈন্যদের রক্ত না দেয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে এলইডি দীপাবলির বাজার দখল করে নিয়েছে। আমরা ভোকাল ফর লোকাল এবং মেড ইন ইন্ডিয়ার কথা বলে যাব, যাতে আমাদের দেশবাসী আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। ভারতবিরোধী এই নর্দমার কীটরা হয়তো আমাদের গালিগালাজ করবে। আমাদের পরিবারকে টেনে আনবে। কিন্তু ভারতের জনগণ তাদের ক্ষমতার বাইরে রেখে এর উপযুক্ত জবাব দেবে।”










