সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: তৃণমূলের দলত্যাগী সাংসদরা (NCPI MPs) এবার কি তাহলে সরাসরি বিজেপিতে যোগদান করছেন? আসলে দলত্যাগ বিরোধী আইনের জটিলতায় ফেঁসে রয়েছেন এই ২০ জন সাংসদ। এখনও পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের তরফ থেকে পাঠানোর চিঠিতে জবাব দিতে পারেননি তাঁরা। তবে দল ত্যাগ করে সরাসরি বিজেপিতে যোগদান না করে সেই সময়ই ত্রিপুরাভিত্তিক এনসিপিআই-তে নাম লিখিয়েছিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদাররা। বিজেপিতে যোগদান নিয়ে সোমবার সাংসদ জগদীপ চন্দ্র বর্মা বাসুনিয়া বড় কথা শোনালেন।
এবার বিজেপিতে যোগদান করছেন এনসিপিআই সংসদরা?
এদিন সংবাদমাধ্যমের সামনে দাঁড়িয়ে জগদীপ বাসুনিয়া স্পষ্ট জানিয়েছেন, “২০ জন তৃণমূলত্যাগী সাংসদের মধ্যে ১৭ জন অর্থাৎ মুর্শিদাবাদের তিনজন সাংসদ ছাড়া বাকিরা খুব শীঘ্রই গেরুয়া শিবিরে যোগদান করবেন। আমাদের সঙ্গে মোট ১৭ জন রয়েছে। ফলে দলবিরোধী আইনে আমরা পড়ব না। বিজেপির নেতৃত্বদের নেতৃত্বে ২০ জন সাংসদ বিজেপিতে যোগ দেওয়ার মনস্থির করেছিলাম। কিন্তু কিছুটা সমস্যার মধ্যে পড়ি। তিনজন সংখ্যালঘু সাংসদ আবু তাহের খান, খলিলুর রহমান এবং ইউসুফ পাঠান সরাসরি বিজেপিতে যোগদান করতে চাইছেন না। এতে তাঁদের এলাকায় সমস্যা তৈরি হবে।”
তিনি আরও বলেন, “প্রথমে এনসিপিআই নামক দলের সঙ্গে আমাদেরকে যুক্ত করে। আমরা বিজেপিতে যেতে চেয়েছিলাম। বিজেপি আমাদের এনসিপিআই-তে নিয়ে গিয়েছে। যাতে আমরা দলত্যাগ বিরোধী আইনে না পড়ি, তিনজন সমস্যার মধ্যেও না পড়েন, সেই জন্যই এটা করা হয়। ভূপেন্দ্র যাদব থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, সকলেই প্রশংসা করেছেন।” যদিও এ বিষয়ে রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার জানিয়েছেন, “আমার কাছে এখনও সাংগঠনিকভাবে কোনও তথ্য নেই। যে বলেছেন তিনি কীসের ভিত্তিতে বলেছেন আমি জানি না।”
আরও পড়ুন: একধাক্কায় তলানিতে! ডলারের বিপরীতে বিরাট পতন ভারতীয় রুপির, দেখুন রেট
জানিয়ে রাখি, এবারের বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের বিধায়করা একদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে যেমন নব্য তৃণমূল গঠন করেছেন, ঠিক তেমনই কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ২০ জন সাংসদ নিজেদের বিরোধী বলে ঘোষণা করে ত্রিপুরাভিত্তিক একটি রাজনৈতিক দল এনসিপিআই-তে যোগদান করেন। এমনকি তাঁরা এনডিএ-কে সমর্থন করবেন বলেই জানান। তবে সেই সময় সরাসরি বিজেপিতে যোগদান না করলেও সাংসদের কথা থেকে স্পষ্ট, এবার তাঁরা গেরুয়া শিবিরের দিকেই পা বাড়াতে চলছেন।










