বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: দারিদ্রতাই তো মানুষকে ঘুরে দাঁড়ানোর রসদ যোগায় (Success Story)। এটা যাঁরা বুঝে গিয়েছেন তাঁদের ঠিকানা আজ সাফল্যের সিঁড়িতে। চায়ের দোকান চালিয়ে সংসার সামলেও যে ছেলে মেয়েকে মানুষের মতো মানুষ করা যায়, সেটা প্রমাণ করে দেখিয়েছে ভারতের বহু বাবা-মা। সেই তালিকায় রয়েছেন রানাঘাটের (Ranaghat) এক চা বিক্রেতাও। কারণ, মেয়ে সুদূর থাইল্যান্ডে আন্তর্জাতিক যোগা প্রতিযোগিতায় জোড়া স্বর্ণপদক জিতে (Bengal Gold Winner) বাংলা তথা দেশের মুখজ্জ্বল করেছে। প্রমাণ করে দেখিয়েছে, ইচ্ছে থাকলে, সফলতাকে আটকাতে পারে না দারিদ্রতা।
বাংলার মেয়ের জোড়া সোনা জয়
পশ্চিমবঙ্গের রানাঘাটের পায়রাডাঙার উকিলনারা এলাকার বাসিন্দা তনিমা বিশ্বাস। বাবার চায়ের দোকান। সেখান থেকে যেটুকু যা আয় হয় তা দিয়েই চলে গোটা সংসার। আর সেই নুন আনতে পান্তা ফুরনো সংসারে সোনা জয়ের স্বপ্ন নেহাৎ বিলাসিতা ছাড়া আর কিছুই নয়! সেটা বুঝেও মেয়ের স্বপ্ন পূরণ করতে নিজের সর্বস্ব ঢেলে দিয়েছিলেন তনিমার বাবা। চায়ের দোকান থেকে যা আয় হতো তা দিয়ে সংসারের হাল বাবা ধরেছিলেন ঠিকই তবে মেয়েকে যোগা প্রতিযোগিতার জন্য একটু একটু করে তৈরি করেছিলেন মা-ই।
নিজের মায়ের হাত ধরেই সাফল্যের যাত্রার শুরুটা করেছিলেন তনিমা। শুরু হয় প্রশিক্ষণ নেওয়া। এরপর একে একে কঠোর পরিশ্রম এবং নিজের ইচ্ছে শক্তিকে সাথে নিয়ে একের পর এক ধাপ এগিয়ে গিয়েছিলেন রানাঘাটের মেয়ে। তবে মেয়ের স্বপ্ন পূরণের পথে বারবার জাঁকিয়ে বসতে চেয়েছিল অভাব। চরম দারিদ্রতাকে ঠেলে নিয়ে গিয়েও ছোট্ট চায়ের দোকান থেকেই সন্তানের ইচ্ছে পূরণের সব রকম চেষ্টা করে গিয়েছিলেন বাবা।
আরও পড়ুন: “বৈভবের কোনও দিনই অন্তত আমার দলে খেলা হবে না” এ কী বলে দিলেন LSG কর্ণধার গোয়েঙ্কা
বলাই বাহুল্য, চায়ের দোকান চালিয়ে সামান্য আয়ে সংসার সামলানোর পাশাপাশি মেয়ের স্বপ্ন পূরণ অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছিল পরিবারের পক্ষে। কিন্তু তাও হাল ছাড়েননি বাবা-মা। অনেক কষ্ট করে মেয়েকে স্বপ্ন পূরণের পথে ঠেলে দিয়েছিলেন তাঁরা। নিজেদের যত সমস্যাই হোক না কেন মেয়ের স্বপ্ন ভাঙতে দেওয়া যাবে না, এমন পণ করেই একেবারে পেছনে লেগে পড়েছিলেন দুজন। সেই মেয়েই এবার থাইল্যান্ডে আন্তর্জাতিক যোগা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে বাংলা তথা দেশের হয়ে দু’দুটি সোনা জিতেছেন। পায়রাডাঙ্গায় নিজের এলাকায় সোনা নিয়ে ফিরেছেন তনিমা। তাতে আনন্দে আত্মহারা গোটা পরিবার। আগামী দিনে আরও বড় লক্ষ্যের জন্য প্রস্তুতি নিতে চান বাংলার মেয়ে।










