যাদবপুর সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগতদের প্রবেশ নিষিদ্ধ হবে? হাইকোর্টে মামলা

Published:

Jadavpur University

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বর্তমানে রাজ্য-রাজনীতিতে আলোচনার শিরোনামে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় (Jadavpur University)। এখানকার দেশবিরোধী কার্যকলাপ এবং বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে রাজ্য সরকারের। এমনকি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হুঁশিয়ারির পরেও হচ্ছে না কাজ। তবে এবার যাদবপুর সহ রাজ্যের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগতদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করতে করা হল হাইকোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ। বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিচারপতি ঋতব্রত কুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চে এই সংক্রান্ত একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগত প্রবেশ নিষিদ্ধ করতে হাইকোর্টে মামলা

আসলে সম্প্রতি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বামপন্থী এবং এবিভিপি ছাত্র সংগঠনের মধ্যে বিশৃঙ্খলা চরম আকার ধারণ করে। পরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এখানে এসে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে গিয়েছিলেন। পাশাপাশি দেশবিরোধী পোস্টারে প্রথমে চুনকাম করা হলেও পরে ফের বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের তরফ থেকে দেওয়াল লিখন করা হয়। সেই সূত্রে যাদবপুর সহ রাজ্যের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা আর শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এদিন হাইকোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। আগামী বুধবার হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হতে পারে বলেই খবর।

ওই মামলায় আবেদনকারী জানিয়েছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে দিনের পর দিন বহিরাগতরা নিয়ন্ত্রণহীন ভাবে প্রবেশ করে শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ নষ্ট করছে। পাশাপাশি তাদের দাপাদাপির কারণে ছাত্র-ছাত্রীদের নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে পড়ছে। এমনকি প্রশাসনিক পরিবেশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর পাশাপাশি ছাত্র সংগঠনের মধ্যেই দিনের পর দিন বিশৃঙ্খলা চরম আকার ধারণ করছে, যেগুলির রাশ টানা দরকার। তাই বহিরাগত অনুপ্রবেশে কড়া নিষেধাজ্ঞা এবং নজরদারির আর্জি জানিয়ে এবার হাইকোর্টের দ্বারস্থ হতে হয়েছে ওই সংগঠনের।

আরও পড়ুন: রাজস্থানে গেরুয়া ঝড়! পৌরসভা নির্বাচনে জয়জয়কার বিজেপির

যদিও এর আগে রাজ্য সরকার দাবি করেছিল, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংগঠন ইচ্ছাকৃতভাবে ভেতরে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগাতে দেয় না। পাশাপাশি পরিচয়পত্র পরীক্ষা থেকে শুরু করে বহিরাগতদের প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে হাইকোর্ট আগে একাধিক নির্দেশিকা জারি করা সত্ত্বেও সেই নিয়ম পালন করা হচ্ছে না বলেই দাবি ওই সংগঠনের। এখন দেখার, এ বিষয়ে রাজ্যের উচ্চ আদালত কোন রায়ের পথে হাঁটে।