ট্রি-হাউস রিসর্ট থেকে আকাশপথে বাঘ দর্শন, সুন্দরবনের পর্যটন ব্যবস্থা নিয়ে বিরাট ভাবনা

Published:

Sundarban

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: পর্যটকদের জন্য এবার বড় সুখবর, সুন্দরবনের (Sundarban) প্রকৃতি ভালোভাবে উপভোগ করতে এবার গড়ে উঠতে চলেছে ফাইভ-স্টার ইকো-ফ্রেন্ডলি ট্রি-হাউস রিসর্ট (Eco Friendly Tree House Resort)। এছাড়াও উপরি পাওনা হিসেবে থাকছে আকাশপথে হেলিকপ্টার থেকে ব্যাঘ্র দর্শনের ব্যবস্থা। পরিবর্তনের বাংলায় পর্যটন ব্যবস্থায় এমন চমক আনতে রবিবার বিশেষ ঘোষণা করলেন রাজ্যের পর্যটন এবং সাংস্কৃতিক বিষয়ক উপদেষ্টা মিঠুন চক্রবর্তী (Mithun Chakraborty)। আর এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই ব্যাপক উত্তেজনা দেখা গিয়েছে পর্যটন মহলে।

সুন্দরবনকে নিয়ে বিশেষ ভাবনা মিঠুন চক্রবর্তীর

এইমুহুর্তে নিম্নচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি অক্ষরেখার জেরে বৃষ্টি হয়েই চলেছে সুন্দরবন। যদিও বছরভরই সেখানে আনাগোনা থাকে পর্যটকদের। কিন্তু রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের দর্শন সকলের সৌভাগ্যে জোটে না। তাতে কি, সুন্দরবনের বাকি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আরও সুন্দরভাবে যাতে পর্যটকরা উপভোগ করতে পারে এবং সুন্দরবনকে আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে এ বার কোমর বেঁধে নামছে রাজ্যের নতুন সরকার। প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী গতকাল রবিবার গোসাবায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে সুন্দরবনের পর্যটন ব্যবস্থা নিয়ে কথা বলেন রাজ্যের পর্যটন এবং সাংস্কৃতিক বিষয়ক উপদেষ্টা মিঠুন চক্রবর্তী।

ইকো-ফ্রেন্ডলি ট্রি-হাউস রিসর্ট হবে সুন্দরবনে

সাংবাদিক বৈঠকে মিঠুন চক্রবর্তী জানিয়েছেন যে, “সুন্দরবনে ৮-১০টি জনমানবহীন দ্বীপ রয়েছে, সেখানে পিপিপি মডেলে ফাইভ-স্টার ইকো-ফ্রেন্ডলি ট্রি-হাউস রিসর্ট গড়ার অনুমতি দেওয়া হবে। এর জন্য বেসরকারি সংস্থাকে দ্বীপের জমি ৯৯ বছরের জন্য লিজ দেওয়া হবে কিংবা সরকার স্থায়ী ভাবে জমি তুলে দেবে। তবে সেখানে যাতে কোনও কংক্রিটের নির্মাণ করা যাবে না।” এমনকি তিনি এও জানান যে, ফাইভ-স্টারের নীচে হলে কাউকে রিসর্ট বানানোর অনুমতি দেওয়া হবে না। কারণ, মূল লক্ষ্যই হল, দেশ-বিদেশের পর্যটকরা যাতে সেখানে স্বচ্ছন্দে থাকতে পারেন। এছাড়াও দেশ-বিদেশের কেউ পশ্চিমবঙ্গে শুটিং করলেই এই সুবিধা পাবেন।

আরও পড়ুন: জুয়ার ঠেকে অভিযান চালাতেই বোমাবাজি, মুর্শিদাবাদে রক্তাক্ত ASI

মন্দির সংস্কার করা হবে প্রশাসনের তরফে

মিঠুন চক্রবর্তী আরও জানিয়েছেন যে, গোসাবায় হেলিপ্যাড থাকলেও হেলিকপ্টারের বিকট শব্দে বাঘের ক্ষতি হয় বলে, সরকারের অনুমতি মেলে না। তাই ঠিক করা হয়েছে কম শব্দের এয়ারক্রাফট দিয়ে আকাশ থেকে বাঘ দেখানোর পরিকল্পনা করা যেতে পারে। এছাড়াও সুন্দরবনের মা মনসা ও বনবিবির মন্দিরগুলি সংস্কার করে রিলিজিয়াস ট্যুরিজম সার্কিটের মধ্যে আনা হবে। পাশাপাশি, সুন্দরবনে একটি গ্রামীণ হাট তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে গ্রামবাসীরা সুন্দরবনের খাঁটি মধু ও হস্তশিল্প বিক্রি করতে পারবেন। থাকবে লোকনৃত্য, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য নিয়ে একটি মিউজিয়াম আরও কত কি।