‘২৫ লাখ টাকা, দানপাত্র’ দেবরাজের বিরুদ্ধে এবার জগন্নাথ মন্দিরে লুঠের অভিযোগ

Published:

Debraj Chakraborty

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: গত বুধবার, প্রোমোটারি, তোলাবাজি, জমি দখল ইত্যাদি একাধিক অভিযোগ পুরুলিয়া থেকে গ্রেফতার হয়েছিলেন প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তী (Debraj Chakraborty)। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক ব্যক্তি প্রকাশ্যে এসে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। আর এবার মন্দির দখল (Temple Extortion) সংক্রান্ত ভয়ংকর অভিযোগ তুললেন ৮৫ বছরের এক বৃদ্ধ। ২৬ লাখের তোলাবাজি সহ দানপাত্র লুঠ নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন তিনি।

মন্দির দখলের অভিযোগ দেবরাজের বিরুদ্ধে

জানা গিয়েছে, বছর ৮৬-র দেবকুমার দাশগুপ্ত একজন ঈশ্বরপ্রেমী মানুষ। তিনি বহু শুভাকাঙ্ক্ষীর কাছ থেকে তহবিল সংগ্রহ করে বাগুইআটির দক্ষিণ জ্যাংরা এলাকায় পরম শ্রদ্ধায় গড়ে তুলেছিলেন একটি জগন্নাথ মন্দির। অসংখ্য ভক্ত আসেন এই মন্দির দর্শনের জন্য। অম্বুবাচী থেকে স্নানযাত্রা, রথযাত্রা থেকে উল্টোরথ— বছরভর ভক্তদের ভিড়ে গমগম করত মন্দির চত্বর। আর সেই মন্দিরেই কুনজর দিয়েছিলেন প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস দেবরাজ চক্রবর্তী। হুঁশিয়ারি দিয়ে নাকি দিনের পর দিন লাখ লাখ টাকা নিতেন এই বৃদ্ধের থেকে। অবশেষে গ্রেফতারির পর সেই প্রসঙ্গে মুখ খুললেন তিনি।

কী বলছেন বৃদ্ধ?

বাগুইআটির অশীতিপর বৃদ্ধ দেবকুমার দাশগুপ্ত অভিযোগ করেছিলেন যে, “২০২২ সাল থেকে দেবরাজ চক্রবর্তীর নজর এই মন্দিরের দিকে। তারপর থেকেই শুরু হয় অবাধ তোলাবাজি ও মানসিক নির্যাতন। বিভিন্ন লোকজনকে বাড়িতে ডেকে পাঠাত। বলত টাকা দাও, নাহলে কেস করে দেব। কখনও ৫ লাখ, কখনও ৮ লাখ, দফায় দফায় টাকা চাইতে। এমনকি বাড়ির ভিতর ঢুকে যেত। জানালা দিয়ে হাত ঢুকিয়ে বলত টাকা দাও। আমি এখন একা থাকি। ছেলে আমার বিজেপি করে, তাই মিথ্যা কেস দেওয়ার ভয় দেখাত। তাই ছেলের জন্য টাকা দিতাম। লক্ষ লক্ষ টাকা দিয়েছি। প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা নিয়ে গিয়েছে। এমনকি গায়ের জোরে গোটা জগন্নাথ মন্দিরের দানপাত্র পর্যন্ত তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। ”

মমতার কাছে গিয়েও বিচার পাননি বৃদ্ধ

দেবরাজের এই কর্মকাণ্ডের জন্য তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছেও বিচারের জন্য গিয়েছিলেন বৃদ্ধ দেবকুমার দাশগুপ্ত। কিন্তু সেখানেও তিনি বিচার পাননি। উল্টে দেবরাজদের দাপট নাকি আরও বেড়ে যায়। এই প্রসঙ্গে বৃদ্ধ বলেন, “আমি মমতার কাছে পর্যন্ত গিয়েছিলাম। আমি দেবরাজদের বাড়িতেই কতবার গিয়েছি। দেবরাজের পাড়াতেও পাঠকীর্তন করে এসেছি। ওর মা-বাবা আমাকে কতদিনের চেনা। আমার সঙ্গে পশুর মতো ব্যবহার করেছে ও। আমি শুনেছি গ্রেফতার হয়েছে। চাই ওর কঠিন থেকে কঠিনতর সাজা হোক।” তবে তিনি শুধু একা নন, দেবরাজের কঠিন শাস্তির দাবি তুলেছেন পাড়া প্রতিবেশীরাও।

আরও পড়ুন: কণ্ঠস্বর বিতর্কে হাইকোর্টে ফের ধাক্কা অভিষেকের! দ্রুত শুনানির আবেদন ফেরালেন বিচারপতি

প্রসঙ্গত, তৃণমূলের আমলে একটা সময়ে রাজারহাট-গোপালপুর, নিউটাউন, বাগুইআটিতে একচ্ছত্র আধিপত্য চালিয়েছেন দেবরাজ। কম অভিযোগ নেই তাঁর বিরুদ্ধে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “দেবরাজের তো এটাই কান, এটাই মাথা। ধারাবাহিক চোর। তৃণমূল কংগ্রেসে চুরি নিয়ে OTT তে সিরিজ লঞ্চ হয়েছে। আর ওনার স্ত্রী তো যা করে গিয়েছেন, উনি গায়ক, ভক্তিগীতি গাইতেন। এখন ভক্তির কী ছিরিছাঁদ তো বুঝতেই পারছি।” ইতিমধ্যেই দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে ওঠা তোলাবাজির মামলার তদন্তে ৬ জনের ‘সিট’ গঠন করেছে বিধাননগর পুলিস কমিশনারেট