ভিন রাজ্যে পালিয়েও হল না শেষ রক্ষা, গ্রেফতার বিষ্ণুপুরের তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল

Published:

TMC MLA Dilip Mondal Arrested

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়ল বিষ্ণুপুরের বিতর্কিত তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল (TMC MLA Dilip Mondal Arrested)। আজ সকালে ওড়িশার পুরীর (Puri) একটি সমুদ্র তীরবর্তী বিলাসবহুল হোটেল থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। আর এই নাটকীয় অভিযানের সাহায্য করেছে ওড়িশা পুলিশ। জানা গিয়েছে, হুমকি ও উস্কানিমূলক মন্তব্য করার মামলায় ধৃত বিধায়ককে ট্রানজিট রিমান্ডে রাজ্যে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

গ্রেফতারির আশঙ্কায় পালিয়েছিলেন বিধায়ক!

বিজেপিকে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে বিষ্ণুপুরের তৃণমল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডলের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছিল পুলিশ। গত ১৪ মে পৈলানে তাঁর প্রাসাদোপম বাড়িতে হানা দিয়েছিল। কিন্তু সকালে তাঁকে বাড়িতে দেখা গেলেও পুলিশ আসার পর থেকে তাঁর খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরে পুলিশ বাড়ি থেকে বিধায়কের দু’টি মোবাইলই খুঁজে পায়। পরে ১৭ তারিখ রাতে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স এবং ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার অফিসাররা বকখালির ফ্রেজারগঞ্জ এলাকা থেকে বিধায়কপুত্র অর্ঘ্য মণ্ডল-সহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করে। কিন্তু খোঁজ মিলছিল না বিধায়কের। অবশেষে পুরী থেকে গ্রেফতার করা হল দিলীপ মণ্ডলকে।

STF এর জালে দিলীপ

পুলিশ সূত্রে খবর, দিন দুয়েক আগে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ জানতে পারে, পুরীর ‘ব্লু লিলি’ হোটেলে রয়েছেন দিলীপ। তাই আজ, বুধবার সকালে পুরীর নিউ মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন একটি হোটেলে অভিযান চালায় বেঙ্গল এসটিএফের বিশেষ দল। সেখান থেকেই ওড়িশা পুলিশের সহযোগিতায় দিলীপ মণ্ডলকে আটক করা হয়েছে। সূত্রের খবর, গ্রেপ্তারের পর পুরীর স্থানীয় থানায় রেখে দিলীপ মণ্ডলকে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ওড়িশার আদালতে পেশ করে ট্রানজিট রিমান্ড মঞ্জুর করিয়ে আজ বিকেলের মধ্যেই তাঁকে কলকাতায় নিয়ে আসা হতে পারে।

আরও পড়ুন: নন্দীগ্রামে ফাঁকা মাঠে গোল দেবে বিজেপি? কেউ হতে চাইছে না তৃণমূলের প্রার্থী!

প্রসঙ্গত, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই মূলত বিতর্কের মধ্যে রয়েছেন বিষ্ণুপুরের এই প্রভাবশালী বিধায়ক। হুমকি ও উস্কানিমূলক মন্তব্য করার মামলার পরিপ্রেক্ষিতে গ্রেপ্তারির আশঙ্কায় কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন দিলীপ মণ্ডল। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে রক্ষাকবচ দেওয়ার পাশাপাশি FIR খারিজের আবেদনও জানিয়েছিলেন তিনি। তবে তার আগেই পুলিশের জালে ধরা পড়লেন বিষ্ণুপুরের বিধায়ক।