সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বঙ্গে এবারের নির্বাচনে একেবারে ভরাডুবি হয়েছে ঘাসফুলের (Trinamool Congress)। তবে এই হারের পিছনে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি বরাবরই নির্বাচন কমিশন দ্বারা চাপিয়ে দেওয়া এসআইআর-কেই দাবি করে আসছেন। এমনকি সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতেও সরব হয়েছেন তিনি। তবে ৩১টি কেন্দ্রে টিএমসি-র হারের পিছনে শুধু এসআইআর-ই দায়ী, এমন দাবি তুলে সম্প্রতি সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন। তবে সেই দাবি এবার খারিজ করল কমিশন। এমনকি ইসিআই-র স্পষ্ট যুক্তি, ডেরেকের দেওয়া ওই পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত যুক্তিযুক্ত নয়।
সুপ্রিমে তৃণমূলের যুক্তি খারিজ কমিশনের
ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে বাংলা সহ মোট ৫ রাজ্যে চলে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর। শুধু পশ্চিমবঙ্গ থেকেই বাদ যায় ৯০ লক্ষ ভোটারের নাম। সেই কারণেই ভরাডুবি হয়েছে তৃণমূলের, এমনটাই দাবি তোলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। তবে ডেরেকের দাবির পাল্টা এবার কমিশন ২১টি আসনের পরিসংখ্যান তুলে ধরে যুক্তি দিয়েছে যে ওই আসনগুলিতে নাম বাদ পড়া ভোটারের তুলনায় শুনানির আওতায় থাকা ভোটারের সংখ্যা অনেকগুণ বেশি।
যেমন কোচবিহারের সিতাইয়ে জয়ের ব্যবধান যেখানে ২৭২১, সেখানে শুনানির আওতায় রয়েছেন ২০,২১৩ জন। একইভাবে সামশেরগঞ্জে জয়ের ব্যবধান ৭৫৮৭। তবে ওই কেন্দ্রের শুনানির আওতায় রয়েছেন ৭৪,৭৭৫ জন। তাই তৃণমূলের ওই দাবির কোনও যৌক্তিকতা নেই বলেই জানিয়েছে ইসিআই। এমনকি কমিশন আরও জানিয়েছে, এসএসডি হিসাবে চিহ্নিত ভোটারদের নাম বিচার বিভাগীয় প্রক্রিয়ার সঙ্গে এক দেখা যায় না।
ECI opposes TMC plea for fresh polls in 31 West Bengal seats, calls claim that SIR adjudication altered results a “speculative theory”
From its affidavits before the Supreme Court:
• 37,05,235 SIR appeals pending. Only 1,26,194 decided out of 38,31,429.
• Murshidabad:… pic.twitter.com/gY3o0uPEsU
— Bar and Bench (@barandbench) September 26, 2026
আরও পড়ুন: ডিভাইডারে ধাক্কা খেয়ে উল্টে গেল গাড়ি, ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে বিজেপি বিধায়ক
কমিশনের বক্তব্য, খসড়া ভোটার তালিকায় যাঁদের শুনানির প্রয়োজন ছিল, শুধুমাত্র তাঁদের নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এসএসডি হিসাবে চিহ্নিত ভোটারদের এই নোটিশ দেওয়া হয়নি। এমনকি এই বিষয়গুলি কখনও বিচার বিভাগীয় প্রক্রিয়ার আওতায় আসে না বলেই জানিয়ে দিয়েছে ইসিআই। এমনকি তৃণমূলের দাবি, বাদ যাওয়া নামগুলির বিরুদ্ধে আপিল বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের কাছে প্রক্রিয়াধীন ছিল। কিন্তু সেই দাবিও প্রত্যাখ্যান করেছে ইলেকশন কমিশন অফ ইন্ডিয়া।










