রেকর্ড ভোটে লাভ তৃণমূল না বিজেপির? পূর্বের পরিসংখ্যান ফেলবে চিন্তায়

Published:

West Bengal Election 2026

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: অবিশ্বাস্য ঘটনা! ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে (West Bengal Election 2026) নজিরবিহীন পরিসংখ্যান গড়ল পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal)। প্রথম দফার নির্বাচনে রেকর্ড ৯২.৭৯ শতাংশ ভোট পড়ল। যেখানে ২০১১ সালে ৮৪ শতাংশ ভোট পড়েছিল। যা নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) থেকে শুরু করে বিরোধী বিজেপি (BJP) দুই দলই। ২০১১ সালের পর নতুন এই রেকর্ড ভোট নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই অনেকের প্রশ্ন তবে কি এবার সরকার পরিবর্তনের পথে যেতে চলেছে নাকি শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস আরও শক্তিশালী হতে চলেছে।

রেকর্ড ভোট পশ্চিমবঙ্গে

কমিশনের দেওয়া সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে, রাজ্যে প্রথম দফায় মোটের উপর ভোট পড়েছে ৯২.৭৯ শতাংশ। যা বঙ্গ রাজনীতির ইতিহাসে এক নয়া নজির গড়ে তোলা হয়েছে। আলিপুরদুয়ারে ৯২.৫২ শতা‌ংশ, বাঁকুড়ায় ৯১.৫৬ শতাং‌শ, বীরভূমে ৯৪.৪৫ শতাংশ, কোচবিহার ৯৪.৪৫ শতাংশ, কোচবিহার ৯৫.৮১ শতাংশ, দক্ষিণ দিনাজপুরে ৯৫.৩৯ শতাংশ, দার্জিলিঙে ৮৮ শতাংশ, জলপাইগুড়িতে ৯৪.৫৯ শতাংশ, ঝাড়গ্রামে ৯২. ১৪ শতাংশ, কালিম্পঙে ৮৩.০৬ শতাংশ, মালদহে ৯৪.৩২ শতাংশ, মুর্শিদাবাদে ৯৩.৫৫ শতাংশ, পশ্চিম বর্ধমানে ৯০.৩১ শতাংশ, পশ্চিম মেদিনীপুরে ৯২.১৬ শতাংশ, পূর্ব মেদিনীপুরে ৯১.০৯ শতাংশ, পুরুলিয়ায় ৯০.৭১ শতাংশ, উত্তর দিনাজপুরে ৯৪.১০ শতাংশ ভোট পড়েছে।

রেকর্ড ভোটেই ক্ষমতায় এসেছিল তৃণমূল

পশ্চিমবঙ্গে এর আগে পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছিল ২০১১ সালে। ওই বিধানসভা নির্বাচনে ভোটদানের হার ছিল ৮৪.৩৩ শতাংশ। আর সেই বছরই ৩৪ বছরের বাম সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রীর পদ গ্রহণ করেছিলেন। এবং তাঁরই নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস বাংলায় ক্ষমতায় এসেছিল। কিন্তু এবার সব রেকর্ড ভাঙল। ২০২১ সালের বিধানসভা বা ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের হারের রেকর্ড ভেঙে গিয়েছে। যে ১৫২ টি আসনে প্রথম দফার ভোট চলছে, সেগুলিতে ২০২১ সালে ভোট পড়েছিল ৮৩.২ শতাংশ। এবং ২০২৪ সালে ৭৯.৮ শতাংশ। অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে এই নির্বাচনকে ঘিরে ভোটারদের বিপুল উৎসাহ ছিল।

আরও পড়ুন: হরভজন সিং থেকে স্বাতী মালিওয়াল, রাঘব চাড্ডার সাথে বিজেপিতে যোগ ৭ AAP সাংসদের

রাজ্যের এই বিধানসভা নির্বাচনে মহিলা ভোটারদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মত, মোট ৩ কোটি ৬০ লক্ষ ভোটারের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৭৫ লক্ষ ছিলেন নারী। সমাজে নিজেদের নিরাপত্তা এবং সম্মান বজায় রাখতে তাঁরাও যে জেগে উঠেছে এটাই তার স্পষ্ট উদাহরণ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন উচ্চ ভোটার উপস্থিতি প্রায়শই সরকারের পরিবর্তনের ইঙ্গিত যেমন দেয় ঠিক তেমনই আবার ক্ষমতাশালীদেরকেও সমর্থন করে। তাই বোঝা মুশকিল তৃণমূল নাকি বিজেপি সরকার গড়তে চলেছে। এদিকে আগামী বুধবার, ২৯ এপ্রিল বঙ্গে দ্বিতীয় দফার ভোট হতে চলেছে। সেদিনও এই বিপুল সংখ্যক ভোটদানের হার দেখা গেলে বাংলায় রেকর্ড ভোট পড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।