বাম আমলে নিখুঁত ভবিষ্যদ্বাণী করা ব্যক্তি এবারেও জানালেন ফল! BJP না TMC-র সরকার?

Published:

West Bengal Election 2026

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: সবে মিটেছে ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ (West Bengal Election 2026) পর্ব। আর ভোট শেষ হতেই একে একে সামনে আসতে শুরু করেছে বিভিন্ন সংস্থার বুথ ফেরত সমীক্ষা বা ‘এক্সিট পোল’ (Exit Poll)। কটি আসন পাবে বিজেপি (BJP), কটি আসন পাবে তৃণমূল (Trinamool Congress), তাই নিয়ে ইতিমধ্যেই কাটাছেঁড়া শুরু হয়ে গেছে। তবে অধিকাংশ জনমত সমীক্ষাই বলছে বিজেপি সরকারের ক্ষমতায় আসতে চলেছে। তবে এবার এই এক্সিট পোল নিয়ে বড় ভবিষ্যৎবাণী করলেন যোগেন্দ্র যাদব।

চমক দিচ্ছে এক্সিট পোলের রিপোর্ট

২৬ এর বিধানসভার ভোট পর্ব মেটার পর রাতারাতি বিভিন্ন সংস্থা বুথ ফেরত সমীক্ষা বা ‘এক্সিট পোল’ করা শুরু করেদিয়েছিল। প্রায় কম বেশি সকলেই দাবি করছে রাজ্যে এবার সরকার পরিবর্তন হতে চলেছে, প্রথমবারের মতো বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসতে চলেছে। আর এই তথ্য শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য যথেষ্ট উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। এমতাবস্থায় ছাব্বিশের ভোটেও বিরাট এগজিট পোল জানিয়ে দিলেন যোগেন্দ্র যাদব। তিনিই একসময় বাম আমলে ২০০৬ সালে এক দারুণ ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন ভোটের। সেই সময় তিনি বলেছিলেন বামফ্রন্ট ২৩৫ পাবে, আর সেটিই মিলে গিয়েছিল। এবারও তিনি ভোট গণনা করলেন।

কী বলছেন যোগেন্দ্র যাদব?

ছাব্বিশের ভোটের এক্সিট পোল প্রসঙ্গে যোগেন্দ্র যাদব জানিয়েছেন, “আমি ভোট বিশেষজ্ঞ নই। তাই এতদিন আমি চুপ করেই ছিলাম। তবে, বাংলার ভোটের সব এক্সিট পোল দেখে আমার মনে হচ্ছে, ঠিকঠাক ভোট হলে তৃণমূলের মেজরিটি পেতে কোনও সমস্যা হবে না। আর বিজেপি রিগিং ছাড়া জিতবে না। তবে এটি পুরোটাই গণিতের বিষয়।” অর্থাৎ যেখানে বাকি সংবাদ সংস্থা এক্সিট পোলে বিজেপির মেজরিটি নিয়ে কথা বলছে, সেখানে যোগেন্দ্র বাবু তৃণমূলের প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। পাশাপাশি তিনি ২০২১ ও ২০২৪ সালের এক্সিট পোলের হিসেবও দিয়েছেন এবং প্রণয় রায়ের ডিকোডারটিও তুলে ধরেছেন। যেখানে দেখা যাচ্ছে বিজেপি এবং তৃণমূল দুইই পাবে ১৪৪টি আসন। কংগ্রেস একটি এবং সিপিএমের উল্লেখ নেই।

আরও পড়ুন: উচ্চ মাধ্যমিকে ফেল, UPSC ক্র্যাক করে IAS হলেন সবজি বিক্রেতা নারায়ণ

প্রসঙ্গত, গতকাল অর্থাৎ বুধবার ভোটগ্রহণের পর্ব মেটার পর তৃণমূল কংগ্রেসও বুথ ফেরত সমীক্ষা করেছেন। এক্স হ্যান্ডেলে টুইট করে জানানো হয়েছে, “আমাদের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন অনুযায়ী, এটি সম্পূর্ণভাবে একটি ‘জনরোষের ভোট’। বহিরাগত বনাম বাঙালি পরিচিতির লড়াই ছিল অন্যতম প্রধান ইস্যু। আমরা সফলভাবে বিভিন্ন এলাকায় মহিলা ভোটারদের সংগঠিত করতে পেরেছি। এমনকি যেসব জেলায় আমরা কিছুটা কঠিন লড়াইয়ের মুখে ছিলাম, সেখানে পরিযায়ী শ্রমিকরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। আমাদের অনুমান, আমরা ২৩০টির বেশি আসন পার করছি এবং নন্দীগ্রামে এগিয়ে রয়েছি।” যদিও এই পরিসংখ্যান কেবলই একটি অনুমান, বাংলার মসনদে শেষ পর্যন্ত কে বসবেন, তা নিশ্চিত হবে আগামী ৪ মে।