বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: জন্ম বাংলার (West Bengal) মাটিতে হলেও রাজ্যে তাঁর কদর ছিল না বললেই চলে! গুরুত্ব দেয়নি কেউই! তাই বাধ্য হয়ে পাড়ি দিতে হয়েছিল ভিন রাজ্য হরিয়ানায়। এবার সেই রাজ্যের হয়েই ইতিহাস রচনা করলেন বাঙালি টেনিস প্লেয়ার অঙ্কুর ভট্টাচার্য (Ankur Bhattacharjee)। কমনওয়েলথ টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপ জিতে নিলেন অঙ্কুর। তাঁর হাত ধরেই ভারতের ঝুলিতে ঢুকল আরেক সোনার পদক। আর এর মধ্যে দিয়েই বাংলার একাংশকে মোক্ষম জবাব দিলেন অঙ্কুর ভট্টাচার্য।
বাঙালি প্রতিভার সোনা জয়
দিল্লির বুকে বসেছিল 22 তম কমনওয়েলথ টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপের আসর। সেখানে খেলেছিল ভারতের 16 জন প্যাডলার। কোটার সুবিধায় সুযোগ পেয়েছিলেন 19 বছরের অঙ্কুর ভট্টাচার্য। অবাক করা বিষয়, এই বাঙালি টেবিল টেনিস প্লেয়ার কিছুদিন আগেই এশিয়ান গেমস এবং কমনওয়েলথ গেমসের মূল দল থেকে বাদ পড়েছিলেন। সেই ছেলেই কমনওয়েলথ টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিলেন ডাবলস পার্টনার পায়স জৈনের।
এ দিনের ম্যাচে একেবারে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের সাক্ষী রেখেছে দুই পক্ষ। সমানে সমানে লড়াই করে 70 মিনিটে গিয়ে শেষ পর্যন্ত 4-3 ব্যবধানের জয় ছিনিয়ে নিতে সফল হন অঙ্কুর। যদিও ম্যাচের একটা সময় বন্ধু তথা ডাবলস পার্টনারের কাছে বেশ খানিকটা পিছিয়ে পড়েছিলেন অঙ্কুর ভট্টাচার্য। তবে সেখান থেকে দাপটের সাথে প্রত্যাবর্তন করে ম্যাচ পকেটে পুরে নেন বাঙালি প্রতিভা। যা সত্যিই স্মরণ করে রাখার মতোই। আর এই সাফল্যে সোনা জিতে বাংলায় করা অবহেলা, নিন্দুকদের সমালোচনা সহ যাবতীয় অপছন্দকে মোক্ষম জবাব দিয়েছেন অঙ্কুর।
View this post on Instagram
অবশ্যই পড়ুন: দেউলিয়া হওয়ার পথে ফুটবলার, বাঁচতে বিক্রি করলেন ফিফা বিশ্বকাপ জয়ের মেডেল
একেবারে চেনা প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে ম্যাচ জিতে কেমন লাগছে জানতে চাওয়া হলে বাঙালি প্রতিভা তথা হরিয়ানার হয়ে কমনওয়েলথ টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণকারী অঙ্কুর খুব পরিষ্কারভাবে জানান, “আমরা খুব ভাল বন্ধু। ও তো আমার ডাবলস পার্টনার। আমরা দুজনেই একে অপরের দুর্বলতা জানি। শুধু তাই নয়, আমাদের মেন্টাল ট্রেনারও একই।” এদিন বন্ধুর বিরুদ্ধে ম্যাচ জিতে খুব একটা আহামরি উদযাপন না করলেও সমালোচকদের মুখ একেবারে বন্ধ করে দিয়েছেন বাংলায় জন্মগ্রহণকারী টেবিল টেনিস তারকা।










