বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: এক সিনেমাই বদলে দিল জীবন। আমির খানের দঙ্গল মুভি দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে শুরু করেন কুস্তি (Wrestling)। স্বপ্ন ছিল, দেশের হয়ে সোনা জিতবেন। তবে অটো চালকের মেয়ের সেই স্বপ্নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল দারিদ্রতা। সেসব কাটিয়েই শেষমেষ দেশের মুখজ্জ্বল করেছেন গুজরাতের মেয়ে হিমানি হিরানি (Himani Hirani)। তুরস্কে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কুস্তি প্রতিযোগিতার অনূর্ধ্ব-71 কেজির বিভাগে রুশ প্রতিপক্ষকে পরাজিত করে ভারতের জন্য সোনা জিতেছেন হিমানি। সাধারণ অটোচালকের মেয়ের এই বৃহৎ সাফল্যে উচ্ছসিত ভাদোদরার বাসিন্দারা!
দঙ্গল দেখেই ভারতকে সোনা জেতালেন হিমানি
গুজরাতের অত্যন্ত সাধারণ পরিবারে জন্ম হিমানির। বাবা প্রকাশ স্থানীয় অটোচালক, মা মীনাবেন একজন গৃহবধূ। গোটা দিন অটো চালিয়ে বাবা যা আয় করেন তা দিয়েই চলে ছোট্ট সংসার। সেই পরিবারেই প্রদীপ হয়ে জ্বলে উঠলেন হিমানি। জানা গিয়েছে, বলিউড স্টার আমির খানের দঙ্গল সিনেমা দেখার পরই হিমানি এবং তাঁর ছোট বোন মেঘা কুস্তিকে নিজেদের পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। আসলে ওই সিনেমাটিতে দেখানো হয়েছিল, একজন বাবা তাঁর মেয়েদের কুস্তিতে চ্যাম্পিয়ন করে তোলার জন্য প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। মুভিতে সেটা দেখেই অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন হিমানির বাবা, মা।
আমির খানের ওই মুভি দেখার পরই নিজেদের দুই মেয়েকে বড় কুস্তিগীর করে তোলার স্বপ্ন জাগে প্রকাশের মনে। সেই মতোই, দুই মেয়ে যাতে কুস্তিতে বড় কিছু করতে পারে সেজন্য তাঁদের সবরকমভাবে সহযোগিতা করেছিলেন ওই অটোচালক এবং তাঁর স্ত্রী। জানা গিয়েছে, ভাদোদরার সালাতওয়াড়ায় অবস্থিত নারায়ণ গুরু আখাড়ায় নিয়মিত কুস্তির প্রশিক্ষণ নিতে যেতেন হিমানি এবং তাঁর বোন। আর সেখান থেকেই নিয়মিত অনুশীলন এবং অধ্যাবসায়ের মধ্য দিয়ে শেষমেষ তুরস্কে কুস্তির আন্তর্জাতিক চ্যাম্পিয়নশিপে দেশের জন্য সোনা জিতলেন হিমানি।
વડોદરાની હિમાની હિરાનીએ તુર્કીમાં કુસ્તી ચેમ્પિયનશિપમાં ગોલ્ડ જીત્યો! અંડર-71 કિલો ફાઇનલમાં રશિયાની ખેલાડીને હરાવી દેશનું નામ રોશન કર્યું. ઓટો રિક્ષા ચાલક પરિવારની દીકરીનું ઢોલ-નગારા સાથે ભવ્ય સ્વાગત, હવે નવેમ્બર 2026ની વર્લ્ડ ચેમ્પિયનશિપ પર નજર.#Vadodara #Wrestling #GoldMedal… pic.twitter.com/4eKd9mCNpb
— Benefit News 24 (@BenefitNews24) September 21, 2026
আরও পড়ুন: নায়ার আর নয়! IPL 2027-র আগে নতুন হেড কোচ খুঁজছে KKR, প্রস্তাব পেলেন এই বিদেশি
আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে কুস্তিতে দেশের নাম উজ্জ্বল করার পর ভাদোদরায় ফিরে আসতেই হিমানিকে রেল স্টেশনে স্বাগত জানাতে হাজির হয়েছিলেন তাঁর বাবা-মা থেকে শুরু করে পরিবারের অন্যান্য সদস্য, সদস্যা, কোচ সহ এলাকার বাসিন্দারা। সেখানেই হামানিকে মালা পরিয়ে বরণ করে সোনাজয়ী মেয়েকে স্বাগত জানান তাঁরা। মেয়ের এমন সাফল্যে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন অটোচালক প্রকাশ এবং তাঁর স্ত্রী। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সোনাজয়ী হিমানি জানিয়েছেন, আগামী নভেম্বর মাসে আমেরিকায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া কুস্তির বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে অংশগ্রহণের জন্য মুখিয়ে রয়েছেন তিনি। সেখানেও দেশের নাম উজ্জ্বল করাই লক্ষ্য।










