বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: রাজ্যের হয়ে জাতীয় স্তরে প্রতিনিধিত্ব করতে গিয়ে যদি জার্সিটাও ঠিক না পাওয়া যায়, তাহলে রাগ তো হবেই! চেন্নাইয়ে জাতীয় জুনিয়র অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে খেলতে গিয়ে বেশ খানিকটা অপ্রস্তুত হয়ে এমনটাই বলেছিলেন বাংলার প্রতিভাবান অ্যাথলিট তহুরা খাতুন (Tahura Khatun)। তাঁর দাবি ছিল, জাতীয় স্তরে রাজ্যের প্রতিনিধিত্ব করতে গিয়ে হাতা কাটা জার্সির বদলে দেওয়া হয়েছিল হাফ স্লেভ জার্সি। যার ফলে বাধ্য হয়ে কাঁচি দিয়ে জার্সি কেটে নিজেরাই সেলাই করে নিয়েছিলেন তহুরারা। পরে সেই জার্সি পরেই সোনা জিতেছেন ভাঙরের মেয়ে।
কী অভিযোগ ছিল বাংলার মেয়ের?
চেন্নাইতে বাংলার হয়ে খেলতে গিয়ে এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছেন বাংলার মেয়ে তহুরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও পোস্ট করে সেই ভিডিও বার্তায় তিনি জানিয়েছিলেন, “জুনিয়র ন্যাশনাল খেলতে এসেছি। একটা প্লেয়ারের গেঞ্জি থাকবে সেট। গেঞ্জির উপর অনেক কিছু নির্ভর করে। আমাদের গেঞ্জি দিয়েছে এই গেঞ্জি পরে নাকি দৌড়াবো। এখন নিয়ম এমন হয়ে গেছে এই গেঞ্জি পরেই দৌড়াতে হবে! ছেলেদের স্লিভলেস গেঞ্জি দেওয়া হয়েছে। এদিকে আমাদের হাফ হাতা গেঞ্জি দিয়েছে। এসব বুদ্ধি কার মাথা থেকে বেরিয়েছে?”
তহুরা আরও বলেন, “বগলের কাছে গেঞ্জি আটকে যাচ্ছে। তাহলে দৌড়ব কীভাবে? কমন সেন্সটুকুও নেই। কাপড়ের মান নিয়ে কথা বলছি না। কিন্তু গেঞ্জির মান এমন হবে? টাকা না থাকলে আমাদের থেকে টাকা নিয়ে জার্সি বানাবেন। যারা ডিস্ট্রিক্ট খেলতে যায় তাঁদের জার্সিও আমাদের থেকে ভাল।” বাংলার মেয়ে জানান, তাঁরা তো জাতীয় স্তরে রাজ্যকে রিপ্রেজেন্ট করছেন। তাহলে এরকম কেন? এমন মন্তব্য করে ভিডিও পোস্ট করতেই বাড়ে বিতর্ক। বাঙালি অ্যাথলিটকে সমর্থন করার বদলে তাঁকে হুমকি দিয়েছেন অনেকেই! সে কথা পরে নিজেই ভিডিও বার্তায় জানান তহুরা।
A bengali sportsperson complaining about the quality and type of jersey and kit received for their games.
Government may have changed in Bengal but babus didn’t.
So many sportspersons complained for decades about the support. They rather play with support from orissa or… pic.twitter.com/bdUntzW5Qh
— The Bong Head (@TheBongHead) October 25, 2026
আরও পড়ুন: ১৬ দিন পর্যন্ত বিশেষ ছুটি পাচ্ছেন রাজ্যের এইসব কর্মীরা, হয়ে গেল ঘোষণা
দ্বিতীয় ভিডিওটিতে নিজের মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয় ভারতীয় অ্যাথলিটকে। তিনি বলেন, “আমাদের অবস্থাটা কী হচ্ছে বুঝবেন না আপনারা! অন্য রাজ্যে এসেছি, যদি বাকিরা দেখে আমরা সেলাই করা জার্সি পরছি, তাহলে তো সেটা রাজ্যেরও অপমান। যাই হোক ওই ভিডিওতে রাগের মাথায় অনেক কিছু বলে দিয়েছিলাম। কিছু ভুল হলে ক্ষমা করবেন!” অনেকেই মনে করছেন বঙ্গ ক্রীড়া ব্যবস্থার একটা নগ্ন বাস্তবতা তুলে ধরলেন বাংলার মেয়ে। যদিও এর জন্য নানাভাবে বহু মানুষের কটুক্তি শুনতে হল তাঁকে! তবে এসবের মাঝে সেলাই করা জার্সি পরেই জাতীয় স্তরে সোনা জিতে নিন্দুকদের মুখের উপর জবাব দিয়েছেন তহুরা।










