প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বৈশাখের শুরূবথেকে অসহ্য গরমে রীতিমত হাঁসফাঁস অবস্থা সকলের। রোদের ভরপুর তেজে গা যেন জ্বলে পুড়ে যাচ্ছে। তবে এটা শুধু ট্রেলার মাত্র, বাকি খেলা দেখাতে এবার আসছে ভয়ংকর ‘সুপার এল নিনো’ (Super El Nino Big Effect)। যার প্রভাবে প্রচণ্ড গরম যেমন পড়বে ঠিক তেমনই কমে যাবে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ। কলকাতায় (Kolkata) তাপমাত্রা রেকর্ড ভেঙে ৪৫ থেকে ৫০ ডিগ্রির ঘরে পৌঁছবে, পশ্চিমী এলাকার অবস্থা হবে আরও ভয়ঙ্কর। এমনটাই সতর্ক করছেন আবহাওয়াবিদরা।
কী এই সুপার এল নিনো?
ভৌগোলিক তথ্য অনুযায়ী, ‘এল নিনো’ হল আবহাওয়ার এক ভয়াবহ উষ্ণ পর্যায়। এই সময় পূর্ব ও মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরের উপরে ‘ট্রেড উইন্ড’ বা বাণিজ্য বায়ুর প্রবাহ স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক দুর্বল হয়ে পড়ে। আর তাতেই মহাসাগরের উষ্ণ জল আর পশ্চিম দিকে সরে যেতে পারে না এবং মহাসাগরের একটা বিরাট এলাকা জুড়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বেড়ে ওঠে। পাশাপাশি এর প্রভাবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া সহ বিশ্বের একাধিক অংশে গরম ও শুষ্ক জলবায়ু তৈরি হয়। আর সেই ‘এল নিনো’ স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী হলে তাকে ‘সুপার এল নিনো’ বলে। এবার তারই প্রভাব পড়তে চলেছে।
বর্ষার পরিমাণ কমবে
ন্যাশনাল ওশানিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন এ বছর ফের প্রশান্ত মহাসাগরে এক ‘সুপার এল নিনো’–র প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। জানা গিয়েছে, সামনের বেশ কয়েক মাস শুধু ভারত নয়, গোটা পৃথিবীর আবহাওয়াতেই বড় পরিবর্তনের পূর্বাভাস দিচ্ছেন তাঁরা। মৌসম ভবন জানিয়েছে, এই প্রথম স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হতে চলেছে এল নিনোর প্রভাবে। সাধারণত প্রতি বছর ১ জুন কেরলে বর্ষা প্রবেশ করে এবং সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি বিদায় নেয়। তবে এবার উত্তর-পূর্ব ভারত, উত্তর-পশ্চিম ভারত ও দক্ষিণ ভারতের কিছু অংশে স্বাভাবিক বর্ষা হলেও, দেশের বাকি অংশে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টি হবে।
আরও পড়ুন: রিয়ান পরাগের এই এক ভুলেই জিতে গেল KKR?
ভারতের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হল বৃষ্টিপাত। কারণ কৃষিকাজের জন্য ৭০ শতাংশ বৃষ্টিপাতের দরকার। জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলির উপরেও ব্যাপক চাপ বাড়বে। লোডশেডিংয়ের মতো সমস্যাও আবার ফিরতে পারে। গরম বাড়লে এসি, কুলারের চাহিদা অনেক বাড়বে। যদিও মৌসম ভবনের তরফে আগেই বলা হয়েছিল, বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নাইজেরিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপিন্সের মতো দেশ, যেখানে জনসংখ্যা বাকি দেশের তুলনায় অনেকটা বেশি, সেখানের নাগরিকরা তীব্র গরমে কষ্ট পেতে চলেছেন। ফলে সামনের বেশ কয়েক মাস শুধু ভারত নয়, গোটা পৃথিবীর আবহাওয়াতেই বড় পরিবর্তনের পূর্বাভাস দিচ্ছেন তাঁরা।










