সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: রাজ্যে সরকার বদল হতেই যাদের হাড়ে দূর্বা গজিয়েছিল, তাদের রাতের ঘুম উড়েছে! আর এই মুহূর্তের বড় খবর, সামশেরগঞ্জ হিংসার মামলায় (Samserganj Violence) ১০ বছরের জেল হল ১২ জন দোষীর। এমনকি কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাদেরকে ৬০,০০০ টাকা করে জরিমানার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। হরগোবিন্দ দাস ও চন্দন দাসের (Hargobind And Chandan Das) খুনের ঘটনায় এই ১২ অভিযুক্তের মধ্যে ৫ জন দোষী সাব্যস্ত হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
সামশেরগঞ্জ মামলায় বড় সাফল্য
উল্লেখ্য, সামশেরগঞ্জ হিংসার সময় বলরাম পাল নামে এক ব্যক্তিকে বাড়িতে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা এবং মারধরের ঘটনা ঘটে। সেই অভিযোগে সামশেরগঞ্জ থানার পুলিশ মামলা দায়ের করেছিল। তদন্তের পর জানা গিয়েছিল যে, হিংসার সময় গোটা পরিবারকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করা হয়। এমনকি প্রত্যেকটি পরিবারের সদস্যদের উপর নৃশংসভাবে অত্যাচার করা হয়। আগুন লাগানো এবং খুনের চেষ্টার জন্য আলাদা আলাদা দুটি মামলা দায়ের করা হয় এবং যার তদন্ত এখনও পর্যন্ত চলছে। সেই ঘটনায় এবার মোট ১২ জনকে দোষী সাব্যস্ত করা হল, এবং তাদেরকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।
ঘটনাটি কী?
জানিয়ে রাখি, গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের ১২ এপ্রিল ওয়াকফ আইনের প্রতিবাদে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ, সুতি এবং ধুলিয়ানের মতো বেশ কিছু এলাকা। আর সেই হিংসার কোপে পড়ে হরগোবিন্দ দাস এবং তাঁর ছেলে চন্দন দাসকে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ ওঠে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। এমনকি অনেক নিরীহ মানুষের বাড়িঘর আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। গত ডিসেম্বর মাসে সেই হামলায় যুক্ত ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিল জঙ্গিপুর আদালত। আর এবার আরও ১২ জনকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ক্ষতিপূরণের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: রাজ্যে বাড়ল গরমের ছুটির মেয়াদ, কবে খুলবে স্কুল? ঘোষণা সরকারের
কিন্তু পুলিশ প্রথম থেকেই জানাচ্ছে যে, রাজনৈতিক নয়, বরং ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণে এই খুন করা হয়েছে। এমনকি চার্জশিটেও সেই কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আর এও বলা হয় যে, হরগোবিন্দ এবং চন্দন দাস খুনের অভিযুক্ত মোট ১৩ জনের ১৩ জনকে গ্রেফতার করে ফেলেছে পুলিশ।










