সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: রাজ্যে পালাবদলের পরপরই তৃণমূলের একাধিক বিধায়ক, সাংসদদের নিরাপত্তায় কাটছাঁট করেছে শুভেন্দুর সরকার। সেই তালিকায় প্রথমেই নাম ওঠে মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee)। বিধানসভা নির্বাচনের পর তাঁর জেড-প্লাস নিরাপত্তা তুলে নিয়েছিল সরকার। তাতেই একাধিক জায়গায় আক্রান্ত হন তিনি। সেই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে নিরাপত্তা ফেরানোর দাবি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন তৃণমূল সাংসদ। তবে দ্রুত শুনানির আবেদন জানালেও আদালত তা খারিজ করেছে বলেই খবর।
নিরাপত্তা চেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ অভিষেক
নিরাপত্তা প্রত্যাহার করার পরপরই সোনারপুর গিয়ে হামলার শিকার হয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকি তৃণমূল সাংসদের বাড়ির সামনে থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় পুলিশি নিরাপত্তা। এদিন আদালতে অভিষেকের আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য বলেন, তাঁর মক্কেল প্রধান বিরোধী দলের সাধারণ সম্পাদক। বিধানসভা নির্বাচনের আগে তিনি আগের সরকারের আমলে জেড-প্লাস নিরাপত্তা পেতেন। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর নতুন সরকার সেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা তুলে নেয়। বর্তমানে অভিষেকের সঙ্গে কোনও নিরাপত্তা বাহিনী নেই। শুধু রয়েছেন কয়েকজন হাউস গার্ড।
আদালতে অভিষেকের আইনজীবী আরও বলেন, নিরাপত্তা প্রত্যাহারের পর তাঁর মক্কেল বেশ কয়েকবার আক্রান্ত হন। তৃণমূলের পরাজয়ের ২৬ দিন পর প্রথম রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যোগদান করেন তিনি। সোনারপুরে নিহত তৃণমূল কর্মী সঞ্জু কর্মকারের বাড়িতে যাওয়ার পথে ডিম, ইট, পাটকেল, এমনকি জুতো ছুড়ে মারা হয় তাঁকে লক্ষ্য করে। কোনও ক্রমে মাথায় হেলমেট পরে নিজের প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন তিনি। তা সত্ত্বেও এলোপাথাড়ি চড়, কিল, ঘুষি চলতে থাকে তৃণমূল সাংসদের উপর। এমন পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করেই বিষয়টি দ্রুত শুনানির আর্জি জানিয়েছেন আইনজীবী।
আরও পড়ুন: পুজোর আগেই বড় উপহার, এইসব কর্মীদের বকেয়া দেওয়ার ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
এদিন এই মামলার শুনানির জন্য বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। তবে দ্রুত শুনানির আর্জি গ্রহণ করেনি রাজ্যের উচ্চ আদালত। যদিও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে মামলা দায়ের করার অনুমতি দিয়েছেন বিচারপতি এবং আদালতের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ৬ অক্টোবর নির্ধারিত নিয়ম মেনেই এই মামলার শুনানি হবে।










