সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপর হামলার ছক ছিল। সেই অভিযোগে বর্ধমান থেকে জঙ্গি যোগের সন্দেহে গ্রেফতার করা হয়েছে হামিম মন্ডল (Hamim Mondal) এবং তাঁর বান্ধবী অর্পিতা সরকারকে। পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠনের সাথেই তাদের যোগসূত্র বলে খবর। তবে হামিম মন্ডলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার অভিযোগে হাওড়া থেকে আরও একজনকে গ্রেফতার করা হল এবার। সূত্রের খবর, ধৃত ওই ব্যক্তির নাম আদিত্য সিং ওরফে রাজ। তিনি হাওড়ার বেলিসিয়াস রোডের বাসিন্দা।
হামিমের সাথে যোগ রাখায় গ্রেফতার আরও ১
সূত্রের খবর, রাজ্যের বর্তমান মন্ত্রী উমেশ রাইয়ের ছেলেকে অপহরণ করা ষড়যন্ত্রের সাথে যুক্ত ছিল এই আদিত্য। সেই কারণে মন্ত্রীর ছেলের বিভিন্ন তথ্য এবং ছবি হামিমকে পাঠাত সে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে আদিত্য বি কম দ্বিতীয় বর্ষের পড়ুয়া। উমেশচন্দ্র কলেজে পড়েছে সে। গতকাল রাতে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স তাঁকে আটক করে। এরপর জিজ্ঞাসাবাদ করে সকলেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আজ তাঁকে বর্ধমান আদালতে তোলা হবে।
আসলে হামিম মন্ডল এবং অর্পিতাকে জেরা করার সময় তাদের ফোনের মাধ্যমে আদিত্য সিং-র নাম উঠে আসে। মন্ত্রী উমেশ রাইয়ের ছেলেকে অপহরণ এবং হানি ট্র্যাপে ফেলার ষড়যন্ত্র ছিল তাঁর। সেই কারণেই হামিমের কাছে নিয়মিত উমেশের ছেলের ছবি, বাড়ি-গাড়ি ইত্যাদির ছবি, চলাফেরা সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য পাঠাত আদিত্য। এমনকি তাঁর শুধুমাত্র হামিম এবং অর্পিতার সঙ্গেই যোগসূত্র ছিল না, বরং সরাসরি সে পাকিস্তানি হ্যান্ডেলারদের সঙ্গে কথাবার্তা বলত। এমনটাই খবর এসটিএফ সূত্রে। এমনকি আদিত্য সিংকে জেরা করার পর তাঁর মোবাইলের সূত্র ধরে আরও বেশ কয়েকজনের নাম উঠে আসে। হামিমরা তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছিল।
আরও পড়ুন: মিলল না স্বস্তি, তৃণমূলের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ মামলায় বড় সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্টের
রাজ্যের বর্তমান পুর ও নগর উন্নয়ন দফতরের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই এবং তাঁর ছেলের গতিবিধির উপর নজর রাখত তারা। তবে এ বিষয়ে আদিত্যের মায়ের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, “আমার ছেলে পড়াশোনা করে। কেন ওকে নিয়ে গেল, কার সঙ্গেই বা কথা বলত, এসব আমরা কিছু জানি না।” যদিও উমেশ রাইকে ফোন করে পর্যন্ত হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। এমনকি মন্ত্রীকে খুনের এবং তাঁর পুত্রকে অপহরণের হুমকি দেওয়া হয়। পরে মন্ত্রী বিষয়টি পুলিশকে জানান। এরপর ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব নেয় এসটিএফ। সেই সূত্র ধরেই বর্ধমান থেকে গ্রেফতার করা হয় হামিমকে। আর হামিমের ফোনের সূত্র ধরে পুলিশের জালে পড়ল আদিত্য।










