অনন্যা সরকার, কলকাতা: পুজোর আগের কয়েকটা মাস চরম কর্মব্যস্ততায় দিন কাটে মৃৎশিল্পীদের। কলকাতার জনপ্রিয় কুমোরটুলি লেনের আঁকাবাঁকা সরু গলির মধ্যে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পে মাটির প্রতিমা গড়ে তোলা হয়। তবে ঐতিহ্যের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুনত্বকেও প্রাধান্য দেন কুমোরটুলির শিল্পীরা। যেমন এবছর নতুন এক অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে উঠে এসেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ (AI)। উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জের একটি পুজো কমিটির জন্য শিল্পী ইন্দ্রজিৎ পাল তৈরি করেছেন বাংলার অন্যতম প্রথম এআই-চালিত রোবোটিক দেবী দুর্গার প্রতিমা (AI Durga), যা এবার পাড়ি দিল পুজো মণ্ডপের উদ্দেশ্যে।
কীভাবে তৈরি করা হল এআই দুর্গা প্রতিমা?
প্রথমে এআই-এর মাধ্যমে জেনারেট করা হয় একটি মা দুর্গার প্রতিকৃতি। তবে এটিই চূড়ান্ত নকশা ছিল না। এই ডিজাইনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, আর তা হল কুমারটুলির অভিজ্ঞ ও নিপুণ কারিগরদের তীক্ষ্ণ দৃষ্টির বিচার। ইন্দ্রজিৎ পাল এক সাক্ষাৎকারে জানান, এআই-এর বানানো ছবিতে কিছু ভুল ছিল।
ছবিটিতে মা দুর্গার একটি হাতে কোনও অস্ত্র ছিল না। আবার কার্তিক, মা সরস্বতী ও মা লক্ষ্মীর বাহনগুলোও সেখানে অনুপস্থিত ছিল। তাই হুবহু সেই ছবিটির নকল করা যায়নি। মূল ধারণাটি এক রেখে সেই ভুলগুলো সংশোধন করে নিতে হয়েছে। শিল্পীর মতে, এই প্রতিমাটি ‘প্রযুক্তি ও শতবর্ষ-প্রাচীন শিল্পকলার এক অভূতপূর্ব সংমিশ্রণ’।
আরও পড়ুন: দুর্গাপুজোর মণ্ডপে লাগাতেই হবে মুখ্যমন্ত্রীর ছবি? যা জানালেন দিলীপ ঘোষ
এই প্রতিমার অন্যতম এক ব্যতিক্রমী এবং আকর্ষনীয় বিষয় হল এর অভিনব মহিষাসুরের অবয়ব, যাকে মানুষের শরীর ও মহিষের মাথাযুক্ত এক অদ্ভুত রূপে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। মা দুর্গার হাতের অস্ত্র, উড়ন্ত চুল এবং তাঁর চোখের মণিতে বসানো হয়েছে রিচার্জেবল ‘ইলেকট্রিক-ব্লু’ আলো, যার ঝলকানিতে প্রতিমাটি উজ্জ্বল হয়ে উঠবে। শিল্পী ইন্দ্রজিৎ পাল জানিয়েছেন, উদ্ভাবনী প্রয়াস এখানেই থেমে নেই, কালিয়াগঞ্জের মণ্ডপটিতেও এআই-এর সাহায্যে তৈরি নকশার ওপর ভিত্তি করে রোবট-কেন্দ্রিক একটি থিম ফুটিয়ে তোলা হবে।










