সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণ, দুই প্রান্তেই এখন বইছে লু। তাপমাত্রার পারদ ছুঁয়েছে ৪২ ডিগ্রির ঘর। বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পুরুলিয়ার মতো জেলাগুলিতে এখন গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা। বাইরে বেরোলে কার্যত হাল খারাপ হচ্ছে আমজনতার। আর এই চরম আবহাওয়ার মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী মে মাসের শুরুতে বিরাট স্বস্তির খবর পেতে চলেছে স্কুল পড়ুয়ারা (Summer Vacation)।
১ মে থেকেই টানা ছুটি স্কুলে
উল্লেখ্য, মে মাসের প্রথম দিকটা মূলত সরকারি ছুটির ক্যালেন্ডারে ভরপুর সাজানো। প্রথমত, ১ মে অর্থাৎ শুক্রবার মে দিবস এবং বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে রাজ্যের সমস্ত স্কুল ও সরকারি অফিস বন্ধ থাকে। দ্বিতীয়ত, ২ মে শনিবার বেশিরভাগ স্কুল ছুটি থাকবে। তৃতীয়ত, ৩ মে রবিবার সাপ্তাহিক ছুটি রয়েছে। এদিকে ৮ মে শুক্রবার রবীন্দ্রজয়ন্তী উপলক্ষে সরকারি ছুটি রয়েছে। আর ৯ এবং ১০ মে শনিবার ও রবিবার সাপ্তাহিক ছুটি। অর্থাৎ, মে মাসের প্রথম ১০ দিনের মধ্যে একটি বিরাট অংশই স্কুল পড়ুয়ারা ছুটি পাচ্ছে। আর মাঝে শুধুমাত্র ৪ থেকে ৭ স্কুল খোলা থাকবে।
উল্লেখ্য, রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলে ইতিমধ্যেই তাপ প্রবাহের সর্তকতা জারি করা হয়েছে। আর স্কুল পড়ুয়াদের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে অভিভাবক মহল থেকে শুরু করে শিক্ষকরা পর্যন্ত বারবার গরমের ছুটি নিয়ে আবেদন জানাচ্ছে। অন্যদিকে আবার ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের কারণে ইতিমধ্যেই বহু স্কুলে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ক্যাম্প করার জন্য পড়াশোনা স্থগিত রাখা হয়েছে। যার ফলে পর্ষদের মডেল হলিডে লিস্ট অনুযায়ী ১১ মে থেকে গ্রীষ্মকালীন ছুটি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে তা আরও এগিয়ে আনা হতে পারে বলে মত শিক্ষানুরাগীদের।
আরও পড়ুন: দ্বিতীয় দফায় বাইক রাইডিং নিয়ে নয়া নির্দেশ হাইকোর্টের
তবে উল্লেখভ না করলেই নয়, এখনও পর্যন্ত গরমের ছুটি অনুষ্ঠানিকভাবেই এগিয়ে আসার ঘোষণা নবান্ন থেকে করা হয়নি। কিন্তু শিক্ষক সংগঠনগুলির দাবি, হারে তাপমাত্রা যে হারে বাড়ছে তাতে মে মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকেই হয়তো ছুটি ঘোষণা করা হতে পারে। আর যদিও ১১ মে থেকে সরকারিভাবে গরমের ছুটি ঘোষণা হয়, তাহলেও মে মাসের শুরু থেকেই টানা ছুটির সুযোগ পাবে খুদেরা।










