কেন রিজেক্ট হচ্ছে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের আবেদন? জানুন বিকল্প উপায়

Published:

Annapurna Bhandar

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ১ জুলাই থেকে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের (Annapurna Bhandar) দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দেওয়া শুরু করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কথা অনুযায়ী, দ্বিতীয় ধাপে মোট ১ কোটি ৯ লক্ষের বেশি মহিলা পেয়েছেন ৩০০০ টাকা। কিন্তু এতদিন পর্যন্ত অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের স্ট্যাটাস চেক করা যাচ্ছিল না। তবে গতকাল সন্ধ্যাবেলা থেকে সোশ্যাল রেজিস্ট্রি অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমেই চেক করা যাচ্ছে স্ট্যাটাস। এমনকি বেশিরভাগ মহিলার অ্যাপ্লিকেশন রিজেক্টেড দেখাচ্ছে। ঠিক কী কারণে বাতিল হচ্ছে আবেদন? পুনরায় কি আবেদন করা যাবে?

বাতিল হচ্ছে অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদন

যারা যারা এতদিন পর্যন্ত স্ট্যাটাস চেক করতে পারছিলেন না, তারা এবার থেকে খুব সহজেই সোশ্যাল রেজিস্ট্রির অফিসিয়াল পোর্টালে মাধ্যমে স্ট্যাটাস চেক করে নিতে পারবেন। সেক্ষেত্রে প্রথমে অফিসিয়াল ওয়েবসাইট খুলে নিজের জেলা সিলেক্ট করতে হবে। তারপর যে মোবাইল নম্বর দিয়ে আবেদন করেছিলেন সেই মোবাইল নম্বর ইনপুট করে ওটিপি বসাতে হবে। এরপর সাবমিট অপশনে ক্লিক করলেই আপনার সামনে অ্যাকনলেজমেন্ট নম্বর আসবে, এবং সেখানেই দেখতে পারবেন আপনার স্ট্যাটাস কী অবস্থায় রয়েছে। কিন্তু গতকাল থেকে দেখা যাচ্ছে, বেশিরভাগ মহিলার অ্যাপ্লিকেশন রিজেক্টেড দেখাচ্ছে। আবার অনেকের পেমেন্ট ফেইলিওর অপশনও দেখাচ্ছে। এর পিছনে কী কারণ হতে পারে?

প্রথমে আসি, যাদের পেমেন্ট ফেইলিওর দেখাচ্ছে তাদের আবেদনের ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা নেই। তাদের আবেদন ভেরিফাই করা হয়েছে এবং অ্যাকাউন্টে টাকা দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। কিন্তু সমস্যা একটাই তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। যে সমস্ত মহিলার ব্যাঙ্কের সঙ্গে ডিবিটি লিংক নেই তাদের পেমেন্ট ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এমনকি ব্যাঙ্কের সঙ্গে যদি কেওয়াইসি না করা থাকে তাহলেও টাকা ঢুকতে সমস্যা হচ্ছে এবং পেমেন্ট ফেইলিওর দেখাচ্ছে। সেক্ষেত্রে ব্যাঙ্কের কেওয়াইসি বা ডিবিটি লিংক ঠিকঠাক করলে, আশা করা যায় অ্যাকাউন্টে ঢুকে যাবে ৩০০০ টাকা।

আরও পড়ুন: ২০২৮ মাধ্যমিকের রেজিস্ট্রেশন নিয়ে বড় ঘোষণা, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ পর্ষদের

এবার যাদের অ্যাপ্লিকেশন রিজেক্ট হচ্ছে, তার পিছনে অনেক কারণ থাকতে পারে। প্রথমত, আধার কার্ড কিংবা ভোটার আইডি কার্ডের তথ্য যদি ভুল দেওয়া হয় তাহলে অ্যাপ্লিকেশন রিজেক্ট হয়ে যাবে। দ্বিতীয়ত, কোনও মহিলার আধার কার্ড কিংবা ভোটার আইডি কার্ড যদি বাবার বাড়িতে থাকে, কিন্তু আবেদনের সময় পরিবারের প্রধান তার স্বামীকে দেখানো হয়, সেক্ষেত্রেও বাতিল হতে পারে। এমনকি বেশিরভাগ মহিলার অভিযোগ, বাড়িতে ৩ টির বেশি পাকা ঘর দিলে আবেদন বাতিল হয়ে যাচ্ছে। এমনকি যদি ২০২৬ এর এসআইআর-এ নাম বাদ যায়, কিন্তু আবেদনের সময় তা উল্লেখ না করা হয় সেক্ষেত্রেও বাতিল হতে পারে আবেদন। তবে হ্যাঁ, যাদের আবেদন বাতিল হচ্ছে, তারা এখনই আর নতুনভাবে আবেদন করতে পারবেন না। আশা করা যাচ্ছে, খুব তাড়াতাড়ি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফ থেকে এডিটের অপশন খুলবে। সেখানে গিয়ে আবার পুনরায় নতুনভাবে তথ্য দেওয়া যাবে।