আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: সংসার চালাতে একসময় রীতিমতো সমস্যায় পড়তে হত তাঁকে। লোকের বাড়িতে কাজ করে যে টাকা উপার্জন করতেন, তা দিয়ে সংসারের সমস্ত খরচ সামলানো সম্ভব হত না। তার প্রভাব পড়ত মেয়েদের পড়াশোনাতেও। তবে মুখ্যমন্ত্রী (Chief Minister) শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) আর্থিক সাহায্য পাওয়ার পর পরিস্থিতি কিছুটা বদলেছে বলে জানালেন গণপতিপুরের বাসিন্দা কাজল সামন্ত।
আর্থিক সহায়তায় বদলেছে জীবন
কাজল সামন্ত জানিয়েছেন, তিনি বিধবা। সংসারের দায়িত্ব একাই সামলাতে হয় তাঁকে। টাকা উপার্জনের জন্য অন্যের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করেন তিনি। কিন্তু সেই আয় দিয়ে সংসারের প্রয়োজন মেটানো বেশ কঠিন হয়ে পড়েছিল। বিশেষ করে মেয়েদের পড়াশোনার খরচ চালাতে তাঁকে সমস্যার মধ্যে পড়তে হত। অন্নপূর্ণা যোজনার মাধ্যমে মাসে ৩ হাজার টাকা পাওয়ার পর সেই চাপ কিছুটা কমেছে বলে জানান তিনি।
কাজলের কথায়, আগে সংসারের খরচ সামলাতেই বেশিরভাগ আয় চলে যেত। ফলে মেয়েদের পড়াশোনার বিষয়টি নিয়ে চিন্তা থাকত। এখন অন্নপূর্ণার টাকা পাওয়ায় সংসারের প্রয়োজনীয় খরচ মেটানোর ক্ষেত্রে কিছুটা সুবিধা হচ্ছে। তাঁর মতে, আগের তুলনায় আর্থিক পরিস্থিতি সামান্য হলেও ভালো হয়েছে। একজন একাহাতে সংসার চালানো মায়ের কাছে এই অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা সত্যিই অনেকটাই স্বস্তির।
আরও পড়ুন: অভিষেকের বাড়িতে টয়লেট ভ্যান ঘেঁষায় চাকরি খোয়ান পুলিশকর্মী, বড় নির্দেশ দিল হাইকোর্ট
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের আওতায় যোগ্য মহিলা উপভোক্তাদের মাসে ৩ হাজার টাকা করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পরিবারের মহিলাদের আর্থিক সহায়তা দেওয়াই এই প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য। ২০২৬ সালের জুনে প্রকল্পটির মাধ্যমে প্রথম দফায় উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। কাজল সামন্তের মতো যাঁদের জীবনে ভরসা যোগানোর কেউ নেই, তাঁদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার জন্য এই অর্থ অনেকটাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সেই কারণেই প্রকল্পের টাকা পেয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।










