বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: পুরুষ লক্ষ্মীর পর পালাবদলের বাংলায় এবার আরেক পুরুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকলো অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) টাকা। তিনি আবার বিশেষভাবে সক্ষম। প্রথম, খবরটা শোনেন নিজের বৌমার কাছ থেকে। আর তারপরেই একেবারে মাথায় হাত পড়ে যায় বৃদ্ধের। জানা গিয়েছে, মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) রঘুনাথগঞ্জ 2 নম্বর ব্লকের খড়কাঠি গ্রামের বাসিন্দা ওই বৃদ্ধের নাম সমজাদ শেখ। তিনি প্রতিবন্ধী ভাতার প্রাপক। কিন্তু হঠাৎ কীভাবে তাঁর অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণার টাকা ঢুকলো (Annapurna Yojana Payment) কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছেন না তিনি। টাকা ঢুকেছে জানতে পেরেই তা ফেরত দিতে BDO অফিসে ছোটেন ওই বৃদ্ধ।
কীভাবে ঢুকল অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা?
রাজ্যে ডবল ইঞ্জিন সরকার ক্ষমতায় আসার পরই কার্যকর হয়েছে অন্নপূর্ণা যোজনা প্রকল্প। ইতিমধ্যেই সেই প্রকল্পের আওতায় বহু মহিলার অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে নির্দিষ্ট অর্থ। তবে যোগ্য হওয়া সত্বেও এখনও অনেকেই এই প্রকল্প থেকে মাসিক ভাতা পাননি। যে কারণে রাজ্যের নানান প্রান্তে বিক্ষোভে শামিল হয়েছেন মহিলারা। এমতাবস্থায়, সম্পূর্ণ ভিন্ন ছবি ধরা পড়ল মুর্শিদাবাদে।
জানা যাচ্ছে, মুর্শিদাবাদের 70 বছরের বৃদ্ধ সামজাদ শেখ বিশেষভাবে সক্ষম হওয়ায় প্রতিবন্ধী ভাতা পান। তবে, সেই ভাতার জায়গায় সম্প্রতি ওই বৃদ্ধের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢোকে অন্নপূর্ণা যোজনার 3,000 টাকা। আর সেই খবর পাওয়া মাত্রই মঙ্গলবার, তড়িঘড়ি পার্শ্ববর্তী BDO অফিসে গিয়ে সেই টাকা ফেরত নেওয়ার আবেদন জানান তিনি। সূত্রের খবর, বৃদ্ধের আবেদনের পরই সবদিক খতিয়ে দেখে ট্রেজারি চালানোর মাধ্যমে টাকা ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুন: ভারতে প্রথমবার ২২০ কিমি গতিতে ছুটবে ট্রেন, শেষের মুখে হাইস্পিড টেস্ট ট্র্যাক তৈরির কাজ
মনে করা হচ্ছে, প্রশাসনিক গাফিলতির কারণেই সামজাদ নামক ওই বৃদ্ধের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকে যায় অন্নপূর্ণা যোজনার অর্থ। সেই টাকা পাওয়ার পর যথেষ্ট চিন্তিত ছিলেন মুর্শিদাবাদের সামজাদ। তবে ঠিক কীভাবে অন্নপূর্ণা যোজনা টাকা ওই বৃদ্ধের অ্যাকাউন্টে গেল তা নিয়ে ধোঁয়াশা পুরোপুরি কাটেনি। গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে প্রশাসনের তরফে। অন্নপূর্ণা যোজনা প্রকল্পের টাকা পাঠাতে গিয়ে একই রকম ভুল আরও হয়েছে কিনা সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে একজন পুরুষের অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণার টাকা ঢুকেছে দেখে কার্যত মাথায় হাত পড়েছে যোগ্য মহিলাদের!










