হিন্দুত্ব কবিতা বিতর্কে জড়ালেন শ্রীজাত, জারি গ্রেফতারি পরোয়ানা

Published:

Arrerst Warrant Against Srijato

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) আবহে রাজ্য জুড়ে থমথমে পরিবেশ। কারণ রাত পোহালেই রাজ্যের ১৫২ টি কেন্দ্রে হতে চলেছে প্রথম দফার বিধানসভা নির্বাচন। এমতাবস্থায় কবি শ্রীজাত-র (Arrest Warrant Against Srijato) বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। জানা গেছে হিন্দুত্ব নিয়ে একটি কবিতা লেখাকে কেন্দ্র করে বিজেপি ও হিন্দু পরিষদের দায়ের করা পুরনো একটি মামলায় এই গ্রেফতারি। নির্বাচনের ঠিক আগে শ্রীজাতর (Srijato Bandyopadhyay) বিরুদ্ধে এই নির্দেশ নিয়ে নিন্দার ঝড় উঠল রাজনৈতিক মহলে।

‘সতর্কতামূলক’ পদক্ষেপ কমিশনের

রিপোর্ট মোতাবেক জানা গিয়েছে, নির্বাচন কমিশন এবং আদালতের নির্দেশে কবি শ্রীজাতকে গ্রেফতারের এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এক্ষেত্রে কমিশনের যুক্তি, ভোটের সময় কবির বয়ান বা লেখা থেকে প্ররোচনা ছড়াতে পারে এবং তাতে উত্তেজনা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই এই ধরনের ঘটনায় ‘সতর্কতামূলক’ পদক্ষেপ হিসেবেই পুরনো মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছে। এদিকে আদালতের নির্দেশ কার্যকর করতে পুলিশ উঠে পড়ে লেগেছে। যদিও এই বিষয়ে শ্রীজাত এখনও পর্যন্ত সংবাদমাধ্যমের কাছে কোনও মন্তব্য করেননি।

গ্রেফতারি নিয়ে রাজনৈতিক তরজা

কবি শ্রীজাতর গ্রেফতারি পরোয়ানা নিয়ে চরমে পৌঁছেছে রাজনৈতিক তরজা। তৃণমূলের পক্ষ থেকে জয়প্রকাশ মজুমদার জানিয়েছেন বাংলায় কৃষ্টি সংস্কৃতির ওপর আঘাত হানতে চায় বিজেপি৷ আর বিজেপির কথাতেই কমিশন গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করছে৷ তবে সেই কথা অস্বীকার করছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের দেবজিৎ সরকার জানিয়েছেন শ্রীজাতর বিরুদ্ধে যে গ্রেফতারি নির্দেশ এসেছে সেটি দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের আদালত৷ তাহলে কীভাবে ভোটের আগে এই কাজ বিজেপি করছে বলে মানুষকে ভুল তথ্য দিচ্ছে তৃণমূল৷ আসলে নির্বাচনে তৃণমূল হারতে চলেছে তাই এইসব ভুল কথা বলছে বলে দাবি বিজেপির৷

আরও পড়ুন: প্রকাশিত হল ট্রাইব্যুনাল নিষ্পত্তির প্রথম তালিকা, কতজন বিচারাধীন দিতে পারবেন ভোট?

ক্ষুব্ধ সাহিত্যিকরা

শ্রীজাতর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার খবর প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন বাংলার সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবীরা। শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় ও বিনোদ ঘোষালের মতো প্রবীণ সাহিত্যিকরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তাঁদের স্পষ্ট প্রশ্ন, কীভাবে একজন কবি বা সাহিত্যিকের বাকস্বাধীনতার উপর এমন আঘাত করা যায়? পাশাপাশি সাধারণ মানুষও এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদে সরব হয়েছেন। ভোটের আগে এক সৃজনশীল ব্যক্তিত্বকে এভাবে আইনি জাঁতাকলে ফেলা নিয়ে আঙুল উঠছে কমিশনের দিকে।