“মুখ্যমন্ত্রীর পদক্ষেপে আমি অত্যন্ত খুশি” প্রভাসের এনকাউন্টারে স্বস্তি প্রকাশ নির্যাতিতার বাবার

Published:

Baruipur Case

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: যোগী স্টাইলে এবার বাংলাতেও শুরু হল এনকাউন্টার। বারুইপুরে নাবালিকা গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় (Baruipur Case) নিহত পরিবারকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। জানা গিয়েছে, গতকাল, পুলিশের হেফাজত থেকে পালানোর সময়ে এনকাউন্টারে মৃত্যু হয়েছে অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল (Prabhas Mondal)। আর তাতেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে শোকগ্রস্ত পরিবার। ধর্ষকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের তাৎক্ষণিক ও কড়া পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নির্যাতিতা কিশোরীর বাবা।

এনকাউন্টারে মৃত প্রভাস মণ্ডল

গতকাল, মঙ্গলবার নবান্ন থেকে বারুইপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে গিয়ে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দ্রুত এবং সঠিক বিচারের আশ্বাস দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। আর সেই সাক্ষাতের ১২ ঘণ্টা পার হতে না হতেই বারুইপুর ধর্ষণ কাণ্ডের অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের রাতারাতি এনকাউন্টার হয়। তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে অপরাধের পুনর্নির্মাণের জন্য ঘটনাস্থলে প্রভাসকে যখন নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তখন সে আচমকাই এক পুলিশ কর্মীর আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালানোর চেষ্টা করে। আর তখনই পাল্টা গুলি চালান পুলিশ অফিসার অর্ঘ্য মণ্ডল। তখনই মৃত্যু হয় তাঁর, আর তাতেই খুশির আমেজ এলাকায়।

কী বলছেন নিহত নাবালিকার বাবা?

এনকাউন্টারের খবর প্রকাশ্যে আসতেই নিহত কিশোরীর বাবা বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী আমার দাদা। তিনি আমাকে কথা দিয়েছিলেন যে দোষীদের একজনকেও রেয়াত করা হবে না। দাদার ওপর আমার পূর্ণ ভরসা রয়েছে এবং পুলিশও অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে ভাল কাজ করেছে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আমার মেয়ে নিশ্চিতভাবেই বিচার পাবে এবং দাদা তাঁর কথা রাখবেন। আমি খুব খুশি এই ঘটনায়। আমি কঠোরভাবে শাস্তি চেয়েছি। দাদা বলেছে, তুমি তোমার কাজ দেখে নাও। সত্যি দাদার ওপর আমাদের ভরসা আছে খুব। আমরা খুব খুশি।” অন্যদিকে প্রভাসের এনকাউন্টারে মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর অভিযুক্তের মা পুলিশের এই পদক্ষেপকে ‘ঠিক হয়েছে’ বলে উল্লেখ করেছেন।

আরও পড়ুন: ভুয়ো প্ল্যান, জাল নথি! কেজিএন প্লাজা কাণ্ডে দেবরাজের বিরুদ্ধে FIR তরুণজ্যোতির

সাধারণত এনকাউন্টারের পর পরিবারের তরফে ক্ষোভ বা কান্নাকাটি দেখা গেলেও, এই ক্ষেত্রে চিত্রটি সম্পূর্ণ উল্টো। নিহত প্রভাসের মা জানিয়েছেন, ‘মা তো কষ্ট হবেই। কিন্তু সেই কষ্ট আর দরকার নেই। ও যা কর্ম করেছে তার ফল পেয়েছে, আমার শান্তি। ও নাবালিকার সঙ্গে যা করেছে, তাতেই ওর মৃত্যু হয়েছে, ভালোই হয়েছে। মৃতদেহ আমি আনব না। আমি দেখতে চাই না। একদম দেখতে চাই না। তোমরা ওখানে নিয়ে যাও, পুঁতে দেবে কোথায় দেবে, ফেলে দেবে দিয়ে দাও। কেউ যাবে না। ও কোনোদিন আমাদের কথা শোনেনি। নেশা করত। আমার আর কিচ্ছু বলার নেই।’