প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: তৃণমূলের ভরাডুবির মাঝে এবার বিধাননগরে পুরসভার (Bidhannagar Municipality) ওয়ার্ড অফিসে মিলল গোপন বেডরুম, শুধু তাই নয় বিছানার পাশের ড্রয়ার থেকে উদ্ধার হল কন্ডোমের (Condom) প্যাকেট! ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে সুকান্তনগর এলাকায়। কাঠগড়ায় বিরোধী দল তৃণমূলকে দাঁড় করিয়ে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি। এদিকে ওই দফতরের এমন বেহাল অবস্থা দেখে ক্ষোভের সুরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী (Sharadwat Mukherjee) জানান, “এই সমস্ত জিনিস দেখাও পাপ।”
ঠিক কী ঘটেছিল?
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, গতকাল অর্থাৎ শুক্রবার সন্ধ্যাবেলায় সুকান্তনগর এলাকায় আসন্ন পুরভোটকে সামনে রেখে বিজেপির একটি পথসভার আয়োজন করেছিলেন স্থানীয় কর্মী-সমর্থকরা। সেই রাজনৈতিক কর্মসূচি শেষ হওয়ার পরেই রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে বিজেপি নেতা-কর্মীরা বিধাননগর পুরসভার ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করেন। আর সেখানকার দৃশ্য দেখে কার্যত অবাক হয়ে যান বিজেপি কর্মী সহ স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। খোঁজ পাওয়া যায় ‘গুপ্ত শয়নকক্ষের’।
অভিযোগ তৃণমূল কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে
বিধাননগর পুরসভার কার্যালয়ে দেখা যাচ্ছে, একটি বিশাল ঘরে পাঁচটি এসি লাগানো রয়েছে। তার সঙ্গে রয়েছে একটি ঘর, যার আলমারিতে রাখা সারি সারি বালিশ। কর্মীদের দাবি, ওই ঘরে ছিল মহিলাদের ব্যবহারের ড্রেসিং টেবিল। শুধু তাই নয়, ড্রয়ার থেকে উদ্ধার হয়েছিল কন্ডোমের প্যাকেট। কিছুদিন আগেই ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর জয়দেব নস্কর ইস্তফা দিয়েছিলেন। তাই স্বাভাবিকভাবেই বিজেপি কর্মীরা প্রাক্তন কাউন্সিলরের দিকেই আঙুল তুলেছেন। কিন্তু এ বিষয়ে তৃণমূল বা ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলরের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
আরও পড়ুন: কল্যাণের অ্যাকাউন্টে ৫৬ লক্ষ টাকার জালিয়াতি, এক বছর পর ধরা পড়ল প্রতারক
বিধাননগর পুরসভার কার্যালয়ে এইরূপ ন্যাক্কারজনক পরিস্থিতি দেখে স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় ক্ষুব্ধ সুরে বলেন, ‘‘বয়স হয়েছে, এমন জিনিস দেখাও পাপ। এ বার বুঝতে পারলাম শয়নকক্ষ কেন!’’ এছাড়াও তিনি দাবি করেন, “অফিসটি অপবিত্র হয়ে গিয়েছে, অবিলম্বে এই অফিসকে গঙ্গাজল দিয়ে ধুয়ে শুদ্ধকরণ করা উচিত।”একটি সরকারি জনপরিষেবা কেন্দ্রের ভেতরে এই ধরনের জিনিস মেলায় স্বাভাবিকভাবেই উপস্থিত সকলেই স্তম্ভিত হয়ে যান। এদিকে পুরভোটের ঠিক মুখে এই ঘটনা বিরোধী দলকে যে চরম অস্বস্তির মধ্যে ফেলেছে তা বেশ বোঝা যাচ্ছে।










