কল্যাণের অ্যাকাউন্টে ৫৬ লক্ষ টাকার জালিয়াতি, এক বছর পর ধরা পড়ল প্রতারক

Published:

Kalyan Banerjee

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: সাইবার জালিয়াতির শিকার হয়েছিলেন শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)! রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট থেকে ৫৬ লক্ষ টাকা খোয়া গিয়েছিল তাঁর। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় সাইবার ক্রাইম বিভাগে যোগাযোগ করা হয়েছিল। অবশেষে প্রায় এক বছর পর কলকাতা পুলিশের (Kolkata Police) সাইবার ক্রাইম শাখার জালে ধরা পড়ল অভিযুক্ত। জালিয়াতির এই ঘটনায় সুবিচার পেলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

কল্যাণের ডরম্যান্ট অ্যাকাউন্টে জালিয়াতি

উল্লেখ্য, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত আসানসোল দক্ষিণের বিধায়ক ছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেই সময় তাঁর নামে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার বিধানসভার উপ শাখায় একটি অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছিল। জানা গিয়েছে, ওই উপ শাখা SBI-র হাইকোর্ট শাখার অধীন। বিধায়ক হিসাবে পাওয়া তাঁর যাবতীয় ভাতা ওই অ্যাকাউন্টেই জমা পড়ত, আর সেই অ্যাকাউন্টেই ঘটে বিপত্তি। শ্রীরামপুরের সাংসদ হওয়ার পর থেকে বিধানসভার ওই অ্যাকাউন্টে দীর্ঘ দিন ধরে কোনও লেনদেন ছিল না। ফলে অ্যাকাউন্টটি ‘ডরম্যান্ট অ্যাকাউন্টে’ পরিণত হয়ে যায়। আর সেখান থেকেই জালিয়াতি করে চুরি যায় টাকা।

ধরা পড়ল প্রতারক

তৃণমূল সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, ডরম্যান্ট অ্যাকাউন্ট থেকেই তাঁর ছবি ও মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে অ্যাকাউন্ট থেকে ৫৬ লক্ষ টাকা তুলে নেওয়া হয়েছিল। তদন্তে জানা যায়, জাল কেওয়াইসি দিয়ে ডরম্যান্ট অ্যাকাউন্ট অ্যাক্টিভ করে প্রতারকরা। তারপর পুরো টাকা তুলে নেয়। এরপরই খোঁজা শুরু হয়েছিল প্রতারককে। অবশেষে এক বছর পর সেই জালে ধরা পড়ল একজন। ধৃতের নাম মোকুলেশর রেজা। অসমের রাঙাপানি থেকে তাঁকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশের সাইবার ক্রাইম শাখা।

আরও পড়ুন: জয়জয়কার ভারতের, বিশ্বের সেরা ১০ স্কুলের দৌড়ে দেশের ৭ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

পুলিশ সূত্রে খবর ধৃত জালিয়াতি করে নেওয়া সেই টাকা দিয়ে বিপুল সোনা কেনা কিনেছিলেন। বর্তমানে ওই সোনাগুলি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। আজই ধৃতকে আদালতে তোলা হবে। অন্যদিকে টাকা ফেরত পাওয়ার পর স্বস্তি পেলেও, ব্যাঙ্কিং সুরক্ষা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে সরব হলেন তৃণমূল সাংসদ। তাঁর কথায়, সাংসদ বলেই টাকা হয়তো ফেরত পেয়েছেন তিনি। সাধারণ মানুষের সঙ্গে হলে কী অবস্থা হত, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন তিনি। কেন্দ্রীয় সরকাররের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তুলেছিলেন।

google button