সহেলি মিত্র, কলকাতা: সংসদে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিল কেন্দ্রীয় সরকার। আপনিও যদি EPFO-র সদস্য হয়ে থাকেন তাহলে আজকের এই খবরটি রইল শুধুমাত্র আপনার জন্য। প্রত্যেক চাকরিজীবী ব্যক্তি তাদের বেতন থেকে এমপ্লয়ি প্রভিডেন্ট ফান্ড (EPF) অ্যাকাউন্টে টাকা বিনিয়োগ করেন। অবসর গ্রহণের পর এই টাকা কাজে আসে, কিন্তু জরুরি প্রয়োজনেও কেউ এই অ্যাকাউন্টের ফান্ড ব্যবহার করতে পারেন। কিন্তু আপনি কি জানেন যে দেশের লক্ষ লক্ষ পিএফ অ্যাকাউন্ট দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় পড়ে আছে? সেই সংখ্যা আবার ২১ লক্ষেরও বেশি? হ্যাঁ ঠিকই শুনেছেন। আপনার জমানো পুঁজি সুরক্ষিত আছে তো?
২১ লক্ষেরও বেশি EPF অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয়?
সংসদে বর্তমানে বর্ষাকালীন অধিবেশন চলছে এবং সরকার পিএফ অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত এই তথ্যটি প্রকাশ করেছে। শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী শোভা করন্দলাজে রাজ্যসভায় একটি লিখিত উত্তরে এই নিষ্ক্রিয় পিএফ অ্যাকাউন্টগুলির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন। সাংসদ নীরজ ডাঙ্গির একটি প্রশ্নের জবাবে এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়, যিনি ২০২০-২১ অর্থবর্ষ থেকে বর্তমান পর্যন্ত তথ্য চেয়েছিলেন। মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য থেকে জানা গেছে যে দেশে দাবিহীন এবং নিষ্ক্রিয় পিএফ অ্যাকাউন্টের সংখ্যা কত দ্রুত বাড়ছে। ইতিমধ্যে সেই সংখ্যা ছাড়িয়ে গিয়েছে ২১ লক্ষেরও বেশি।
চাঞ্চল্যকর তথ্য দিল সরকার
এদিকে এই নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়া পিএফ অ্যাকাউন্টের টাকার পরিমাণও নেহাত কম নয়। সরকার হিসেব দিয়েছে, ২০২০-২১ অর্থবর্ষে দেশে নিষ্ক্রিয় ইপিএফ অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ১১,৭২,৯২৩, যা ২০২৩-২৪ সালে সরাসরি বেড়ে ২১,৫৫,৩৮৭ হয়েছে। এর মানে হলো, মাত্র চার বছরে এই অ্যাকাউন্টগুলোতে প্রায় ৮৪% বৃদ্ধি ঘটেছে। সরকার আরও জানিয়েছে যে, এই নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্টগুলোতে জমাকৃত গড় ব্যালেন্সও চার বছরে ১৮% বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২০-২১ অর্থবর্ষে প্রতি অ্যাকাউন্টে গড় জমার পরিমাণ ছিল ৩৩,৫১৩ টাকা, যা ২০২৩-২৪ সালে বেড়ে ৩৯,৪৬০ টাকা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ছুটির দিনেও শিয়ালদা ডিভিশনে খোলা থাকবে ৫০ রিজার্ভেশন কাউন্টার, তালিকা দিল পূর্ব রেল
এর মানে হলো, যদি আমরা নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্টের সংখ্যাকে ৩৯,৪৬০ টাকা দিয়ে গুণ করি, তাহলে বর্তমানে প্রায় ৮৫০ কোটি টাকানিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে। শোভা করন্দলাজে ফ্রিজ থাকা অ্যাকাউন্টের সংখ্যা জানানোর পাশাপাশি এর কিছু কারণও ব্যাখ্যা করেছেন। অ্যাকাউন্ট জব্দ হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ হলো, মানুষ চাকরি পরিবর্তন বা ছেড়ে দেওয়ার পর তাদের পুরোনো পিএফ অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলা বা ট্রান্সফার করার দাবি করে না। সাম্প্রতিক কেওয়াইসি ও আধার সিডিং কার্যক্রম চলাকালে অনেক পুরোনো অ্যাকাউন্টও শনাক্ত হয়েছে এবং সেগুলোকে নিষ্ক্রিয় তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেগুলো আগে জন্মতারিখ বা সম্পূর্ণ তথ্য না থাকার কারণে তালিকার বাইরে ছিল।










