প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: গ্রাম বাংলার এক গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক উৎসব হল মনসা পুজো (Ma Manasha)। চলতি বছর ১৮ আগস্ট মঙ্গলবার এই পুজো হবে। মূলত সাপ বিপদ থেকে মুক্তি পেতে গ্রাম বাংলায় এই পুজোর প্রচলন হয়েছিল। তবে পৌরাণিক কাহিনি (Mythology) অনুযায়ী মনসা দেবীর পুজোর সঙ্গে নাকি জড়িয়ে আছে বঞ্চনা এবং অবহেলার নানা ইতিহাস। আপনি কি জানেন কেন মা মনসার এক চোখ অন্ধ হয়ে গিয়েছিল? তাহলে চলুন আজ এই রহস্য নিয়েই আলোচনা করা যাক।
মা মনসার জন্ম রহস্য নিয়ে রয়েছে নানা বিতর্ক
মা মনসার জন্ম রহস্য (Mythology) নিয়ে নানা মুনির নানা মত ছিল, কেউ বলেন তিনি ছিলেন দেবাদিদেব মহাদেবের কন্যা, আবার কেউ বলেন তিনি ছিলেন ঋষি কশ্যপ এর কন্যা। পুরাণে বলা হয়, সর্পদংশনের ভয় থেকে মানুষকে বাঁচানোর জন্য প্রজাপতি ব্রহ্মা কশ্যপমুনিকে একটি মন্ত্র আবিষ্কারের আদেশ দিয়েছিলেন। ব্রহ্মার আদেশে অনুযায়ী ঋষি কশ্যপ ধ্যান শুরু করেছিলেন, আর ঠিক তখনই এই বিষয়ে চিন্তা করতে করতে তাঁর ‘মননক্রিয়া’ থেকে আবির্ভূতা হন এই দেবী। যেহেতু মন থেকে তাঁর জন্ম হয়েছিল, তাই তাঁর নাম মনসা রাখা হয়েছিল। তবে মনসাবিজয় কাব্য বলছে অন্য কথা।
কেন মা মনসার এক চোখ অন্ধ?
মনসাবিজয় কাব্য অনুযায়ী, বাসুকীর মা একটি ছোটো মেয়ের মূর্তি তৈরি করেছিলেন। বলা হয়েছিল সেই মূর্তির উপর শিবের বীর্য পড়লে তা থেকে মনসার জন্ম হবে। এরপর মা মনসাকে বাসুকী নিজের ভগিনীরূপে গ্রহণ করেন। কিন্তু পরে নাকি স্বয়ং শিব মনসাকে দেখে কামাতুর হয়ে পড়েছিলেন। যদিও তখন মা মনসা তাঁকে বুঝিয়ে বলেছিলেন যে, তিনি আসলে শিবেরই কন্যা। এরপর শিব মনসাকে নিয়ে কৈলাসে এলে তাঁকে দেখে রেগে যান শিবের পত্নী পার্বতী তথা মা চণ্ডী। ভাবেন মা মনসা হয়ত শিবের উপপত্নী। তখনই রাগের বশে মা মনসার একটি চোখ বেলপাতা দিয়ে আঘাত করায় অন্ধ বা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। আর সেই থেকেই নাকি মা মনসার এক চোখ অন্ধ।
আরও পড়ুন: শ্রাবণ মাসে কেন মহিলারা সবুজ চুড়ি পরেন? জানুন আসল ইতিহাস
প্রচলিত মতামত অনুযায়ী মা মনসা জন্মকাল থেকেই নানা অবহেলার স্বীকার হয়েছিলেন। তাইতো তিনি সবসময়ই রাগী থাকেন। তার উপর গ্রামে গঞ্জে সে সময় সাপেরও ভয় ছিল বেশ, তাই সকলেই সেই সমস্যা থেকে বাঁচতে মায়ের পুজো করতেন। যদিও খুব সহজে তিনি দেবী রূপে স্বর্গে স্থান পাননি। তার কারণ ছিল চাঁদ সদাগর। একে একে তাঁর সকল ছেলের প্রাণ কেড়ে নিলেও কিছুতেই তিনি মা মনসার পূজো করতে চাননি। শেষ পর্যন্ত লখিন্দরের প্রাণ ফিরিয়ে এনে বেহুলা চাঁদকে রাজি করান মনসার পুজো দিতে। তখনই বাম হাতে, মুখ ঘুরিয়ে মনসার পুজো দেন চাঁদ সদাগর। এরপর থেকেই ঘরে ঘরে প্রচলিত হয় মনসা পুজো। যদিও সবটাই এখন পৌরাণিক কাহিনী, যা নিয়ে আজও তর্ক বিতর্ক লেগেই রয়েছে।










