ডিএ শূন্য! ক্ষতি না লাভ হবে বাংলার কর্মীদের?

Published:

সহেলি মিত্র, কলকাতা: বাংলার সরকারি কর্মীদের ডিএ (Dearness Allowance) শূন্য হয়ে গেল! এমনই এক দাবি ঘিরে সর্বত্র শোরগোল পড়ে গিয়েছে। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে বাংলায় মহার্ঘ্য ভাতা নিয়ে জলঘোলার শেষ নেই। এখন আবার গ্র্যান্ট ইন এইড এবং কেএমসি এলাকায় বসবাসকারী পেনশনপ্রাপকদের টাকা না পাওয়ার বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। দীর্ঘ লড়াই চলেছে। এখন নতুন সরকার সকলের সব বকেয়া টাকা মিটিয়ে দেওয়ার ঘোষণা করেছে। দুর্গাপুজোর আগেই সকলে টাকা পেয়ে যাবেন বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।যদিও এখন এই বিষয়ে আবারও চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করলেন কনফেডারেশন অব স্টেট গভঃ এমপ্লয়িজের সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায় (Malay Mukherjee)।

সরকারি কর্মীদের ডিএ এখন শূন্য!

তিনি নিজের ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘০১/০৪/০৮ থেকে ৩১/১২/১১ পর্যন্ত সরকার ৬০৫ পয়েন্ট ধরে ডিএ ক্যালকুলেশন করার ফলে ডিএ বকেয়া ডিএ শূন্য (০) এমন কী মাইনাস (-) পর্যন্ত হয়ে গিয়েছে। ১৫,২২৫ টাকা পেনশন-বেসিকের একজন কর্মচারী ০১. ০৪. ০৮ থেকে ৩১. ১২. ১১ প্রথমে ঋণাত্মক (-) পরবর্তী ওই পিরিয়ড শূণ্য টুকু (০) ধরে তৃতীয় কিস্তি হিসাবে ফিরিয়ে দেয়।’ এক ভিডিও বার্তায় মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘১.৪.২০০৮ থেকে ৩১.১২.২০১৫ ওই সময়টুকু যারা চাকরিরত ছিলেন বা চাকরিরত আছেন তাঁদের এবার ডিএ-টা একটা কিস্তিতেই দিয়ে দেবে সরকার। এই নিয়ে SoP অবধি জারি হয়েছে। সরকার যেভাবে ডিএ গণনা করেছে সেটাও আগে আমরা জানিয়েছি। ৫৩৬ AICPI ধরে যেখানে গণনা করার কথা, সেখানে ৬০৫ ধরে ডিএ গণনা হয়েছে। এর ফলে আমাদের ডিএ শূন্য, এমনকি মাইনাস হয়ে গেছে।’

মলয়বাবু আরও জানান, ‘কেএমসি এলাকা এলাকা ব্যতিত অনেক কর্মচারী থেকে শুরু করে অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ২০২৬ সালের ২ এপ্রিল থেকে বকেয়া টাকা পেতে শুরু করেছেন। আগের সরকার টাকা দেয়। এরপর নতুন সরকার গঠন হয়। মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দায়িত্ব নেওয়ার পর ২ জুন নবান্নে আমাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তার আগে আমরা লক্ষ্য করি, বিভিন্ন অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী সমাজ আমাদেরকে জানাচ্ছেন যে একটা টাকা তাঁদের অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে। বিষয়টি আমরা সরকারকে জানাই। সেই সময়ে সরকার কোনও কথা বলে না। কারণ একটাই সরকারি নোটিশ ছাড়া কীভাবে ট্রেজারি থেকে পেনশন পেতে পারেন সকলে। যাইহোক, এরপর ধীরে ধীরে আমরা বুঝতে পারি ডিএ-টা কীভাবে শূন্য হয়ে যায়।’

কী প্রতিক্রিয়া কর্মীদের?

এই নিয়ে অনেকে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। একজন লিখেছেন, ‘গ্রান্ট ইন এইডের কর্মীরা কি কিছু পাবেন না? এত মামলা , শুনানি , সুপ্রিম কোর্টের সামনে দাঁড়িয়ে ফটো সেশন , বাগাড়ম্বর আলোচনা ,ব্রেকিং নিউজ, সাক্ষাৎকার, গালভরা প্রতিশ্রুতি, ভরসা ও আস্থার কমতি নেই। মিটিং , মিছিল , 50 মিনিটের ভিডিও ওর TRP বাড়ানো সব চলছে। গত দশমাস ধরে এই প্রহসন দেখে চলছি। কিন্তু প্রশ্ন একটাই এর শেষ কোথায় ? গ্রান্ট ইন এইডের অসংখ্য অবসরভোগীর হতাশা ও যন্ত্রণা আপনারা কি বুঝেও না বোঝার ভণ্ডামি করছেন ? সরকারি কর্মচারীরা তো এক বছর ধরে বকেয়া DA-ও উপর্যুপরি পেয়েই যাচ্ছেন। এখন আপনারা টাকার হিসেবে ব্যস্ত কতটা কম পেলাম , আবার TDS কাটা হবে , এইসব ব্যক্তিগত চিন্তা ভাবনা নিয়ে I তখন কি একবারও মনে হয় না যে গ্রান্ট ইন এইড কর্মচারী ও তাদের অভাগা অবসরভোগীদের দুর্দশার কথা ? যাঁরা একটি পয়সাও পাননি ? আপনাদের মানবিক বোধ জাগ্রত আর কবে ?’

আরও পড়ুনঃ বাঁকুড়ার ঝিলিমিলি থেকে কলকাতার SBSTC বাস, দেখুন রুট-ভাড়া ও সময়সূচি

অপর একজন লিখেছেন, ‘536 এর পরিবর্তে 605 কেন? কিসের ভিত্তিতে সেটা ঠিক বুঝতে পারছি না। 605 ধরে হিসেব করার লজিকটা কি, 536 ধরে না দেওয়ার লজিকটাই বা কি সেটা ক্লিয়ার করলে বুঝতে, হিসেব করতে সুবিধে হত। 536 এর হিসেব টাই যে প্রাপ্য সেটা যদি প্রতিষ্ঠিত করা যায় তবে 605 এর প্রশ্ন উঠছে কিভাবে? তার মানে 605 দেওয়ার যুক্তি এখনও অবধি মান্যতা পাচ্ছে তাই সরকার সেইভাবে গণনা করছে। এই গুলো একটু পরিস্কার বুঝিয়ে দেওয়ার অনুরোধ থাকলো’। আরও একজন লিখেছেন, ‘605 কি আইনগত ভাবে সঠিক? কারণ সেই সময়ের ডিএ যখন দেওয়া হচ্ছে এখন সুপ্রিম কোর্টের অর্ডারে এবং তখনও যেটুকু দেওয়া হয়েছিল তা AICPI মেনেই, তাহলে এখন 536 এর বদলে হঠাৎ করে স্বৈরাচারীর মতো কোনো ভারতের আইন না মেনে নিজের মর্জি মতো একটা হিসাব করে ডিএ দেওয়াটা কখনই হতে পারে না।’

google button