সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ সুপ্রিম কোর্টে বকেয়া ডিএ (Dearness allowance) মামলার শুনানি থাকলেও তা ফের একবার পিছিয়ে গিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনা বাংলার সরকারি কর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষের সৃষ্টি করেছে। ইতিমধ্যে সরকারের তরফে এই ডিএ বিষয়ক স্ট্যাটাস রিপোর্ট সুপ্রিম কোর্টে জমা করা হয়েছে। সেই রিপোর্ট সরকারি আধিকারিকদের কাছেও এসে পৌঁছেছে বলে দাবি করেছেন কনফেডারেশন অফ স্টেট গভঃ এমপ্লয়িজের সাধারণ সম্পাদক মলয় মুখোপাধ্যায়। সেইসঙ্গে ডিএ মামলায় সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিলেন তিনি।
বকেয়া ডিএ নিয়ে বড় বার্তা সরকারি কর্মীদের
এক ভিডিও বার্তায় মলয় মুখোপাধ্যায় জানান, ‘WBCPI হারে রাজ্য সরকার যে ৬০৫ ইনডেক্স ধরে ডিএ গণনা করে কর্মচারীদের হাতে যে টাকা দিয়েছে তা অর্ধেকেরও কম। এই ৬০৫ ইনডেক্স ধরে ডিএ গণনা করা হয়েছে তাতে শূন্য হয়ে গিয়েছে বকেয়া। তবে সেটা কিন্তু আমরা মানব না। কারণ রোপা ২০০৯ AICPI ৫৩৬ ইনডেক্স ধরে গণনা হয়েছে এবং সেই মতই ডিএ-টা আমরা পেয়েছি। এমনকি দিল্লি, চেন্নাইতে কর্মরত কর্মীরা পূর্ণাঙ্গ ডিএ পেয়েছেন। তাঁরা ৫৩৬ ইনডেক্স ধরেই পঞ্চম বেতন পে কমিশনের আওতায় ডিএ পেয়েছেন। তাহলে এক যাত্রায় পৃথক ফল হতে পারে না। আমাদের দাবি, ৫৩৬ ইনডেক্স ধরেই আমাদের বকেয়া ডিএ দিতে হবে।’
কী বলছেন আইনজীবী?
অপর এক ভিডিওতে ডিএ মামলার আইনজীবী ফিরদৌস শামিম জানান, ‘সরকার আদালতে যে স্ট্যাটাস রিপোর্ট দিয়েছে সেখানো জানানো হয়েছে ১১,৯৮৩ কোটি টাকা বকেয়া আছে। সেই বকেয়া ডিএ-র পেমেন্টের বিষয়ে সরকার কর্মচারীদের ২০০৮ থেকে ২০১৫ সাল এবং ২০১৬ থেকে ২০১৯ এই দুইভাবে ভাগ করেছে। সরকার জানিয়েছে সমস্ত তথ্য তাঁদের কাছে নেই। তাই তাঁরা দুইভাগে বিভক্ত করেছে। সরকার ভাগ করে দিয়েছে কোন বিভাগে কাকে কত টাকা পেমেন্ট করা হবে। সরকারি কর্মচারীদের বাইরে যে সকল সরকার পোষিত স্কুল, যে সকল প্রতিষ্ঠান রয়েছে তাঁদেরকে গ্রান্ট ইন এইড বলা হয়, তাঁদের বিষয়েও সরকার আপডেট দিয়েছে।’আইনজীবী জানান, ‘আমাদের স্পষ্ট বক্তব্য, ডিএ AICPI অনুযায়ী দিতে হবে।’
আরও পড়ুনঃ ৪০ হাজার কোটি টাকা দাবিহীন হয়ে পড়ে LIC ও EPFO-তে, কী করা হবে? জানাল সরকার
উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টে বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গের মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ সংক্রান্ত মামলার শুনানি হওয়ার কথা ছিল, তবে তা হয়নি। বুধবার রাতে বিজ্ঞপ্তি জারি করে এ কথা জানিয়েছে শীর্ষ আদালত। ডিএ মামলার শুনানির জন্য সুপ্রিম কোর্টে যে বিশেষ বেঞ্চ গঠন করা হয়েছিল, তা বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। ফলে সাধারণ নিয়মেই বেঞ্চ বসবে। পরিবর্তে ডিএ মামলা আদালত কবে শুনবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।










