বকেয়া ডিএ’র দাবিতে ফের আন্দোলন, বড় ঘোষণা শিক্ষক সংগঠনগুলোর

Published:

Dearness allowance

সহেলি মিত্র, কলকাতা: মহার্ঘ্য ভাতা বা ডিএ (Dearness allowance) নিয়ে জটিলতা কাটতেই চাইছে না। এদিকে সুপ্রিম কোর্টে মামলার শুনানি থাকলেও তা ফের একবার পিছিয়ে গিয়েছে। ফলে নতুন করে ক্ষোভের সঞ্চার ঘটেছে সরকারি কর্মীদের মধ্যে। এর ফলে বকেয়া মহার্ঘ্য ভাতা আদায়ের দাবিতে নতুন করে আন্দোলনের ডাক দিলেন সরকারি কর্মীরা। এবার এই আন্দোলনের ডাক দিয়েছে শিক্ষকদের সংগঠনগুলি। হ্যাঁ একদম ঠিক শুনেছেন। কবে এবং কোথা থেকে হবে আন্দোলন? চলুন সে সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

ডিএ-র দাবিতে ফের আন্দোলনের ডাক কর্মীদের

গতকাল ২৩ জুলাই বিচারপতি সঞ্জয় কারোল ও প্রশান্ত কুমার মিশ্রর স্পেশাল বেঞ্চে মামলার শুনানি হওয়ার কথা ছিল। যদিও শীর্ষ আদালতের তরফে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়ে দেওয়া হয় নির্দিষ্ট দিনে শুনানি হবে না। এই ঘটনার ফলে নতুন করে সরকারি কর্মীদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে সেটা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। এহেন অবস্থায় ডিএ সহ আরও বেশ কিছু ইস্যুতে আগামী ৩০ জুলাই আন্দোলনের ডাক দিয়েছে শিক্ষক সংগঠনগুলি।

গুরুতর অভিযোগ শিক্ষকদের

৮টি বাম শিক্ষক সংগঠন এই আন্দোলন করবে বলে খবর। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ৩০ জুলাই দুপুর ২টো নাগাদ সুবোধ মল্লিক স্কোয়্যার থেকে মিছিল করে রানি রাসমণি অ্যাভিনিউয়ে সমাবেশ হওয়ার কথা। ডিএ বা মহার্ঘ্য ভাতার পাশাপাশি টেট নিয়েও যাতে দ্রুত সুরাহা হয়, সেই দাবিতেও এদিন আন্দোলন চলবে বলে খবর। এই বিষয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষকদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, তৃণমূল সরকারের আমল থেকেই এই মহার্ঘ ভাতা নিয়ে নানা টালবাহানা চলছে। সুপ্রিম কোর্ট বকেয়া মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার রায় দিয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত শিক্ষকেরা তা আদৌ পাবেন কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা ছিল।

এদিকে তৃণমূল সরকারের নানা পদক্ষেপে শিক্ষকদের মধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছিল। তার প্রতিবাদে গত ১৩ মার্চ ধর্মঘটে শামিল হন শিক্ষকদের একাংশ। তার পরই বিকাশ ভবন সূত্রে খবর পাওয়া যায়, রাজ্য অর্থ দফতরের তরফে একটি নির্দেশিকায় জানানো হয়েছিল, সংশ্লিষ্ট দফতর স্থির করবে কোন পদ্ধতিতে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা দেওয়া হবে। এরপর নতুন বিজেপি সরকার নবান্নে এই বিষয়ে বৈঠকও করে, বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই এখনো অবধি হয়নি। এই বিষয়ে বড় তথ্য দিয়েছেন বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল। তিনি বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বকেয়া ডিএ নিয়ে বর্তমান সরকার যে হলফনামা জমা দিয়েছে তাতে শুধু পূর্বতন সরকারের মানসিকতার প্রতিফলন ঘটেনি, তা অর্ধ সত্য। কারণ সরকারই ঘোষণা করেছিল শিক্ষক শিক্ষাকর্মী-সহ গ্র্যান্ট ইন এইড কর্মীদের বকেয়া মিটিয়ে দেবে। এমনকি নির্বাচনের আগে লাগাতার প্রচারও করেছে। এখন উল্টো কথা বললে কী করে হবে? আমরা আগামী ৩০শে জুলাই রাজপথে নেমেই এর প্রতিবাদ করব।’

আরও পড়ুনঃ পাকিস্তান থেকে চলছিল ষড়যন্ত্র! CJP আন্দোলনের মাঝে বড় তথ্য ফাঁস করল দিল্লি পুলিশ

অন্যদিকে বিশেষ বার্তা দিয়েছেন নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ধ্রুবশেখর মণ্ডল। তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে যে তথ্য দাখিল করেছে সেখানেও সুকৌশলে আমাদের ‘গ্র্যান্ট ইন এইড’-এর আওতাধীন যাঁরা পড়েন সেটা বাদ দেওয়া হয়েছে। এর বিরুদ্ধেই ফের পথে নামতে হবে।’