শ্যামাপ্রসাদের ফলক সরিয়ে ফের বীরভূমের রাস্তা হল নেতাজির নামে

Published:

Birbhum

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: চাপে পড়েই এবার পিছু হাঁটল বিজেপি। স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে ফের বদলে গেল বীরভূমের (Birbhum) রামপুরহাটের (Rampurhat) রাস্তার নাম। জানা গিয়েছে, রামপুরহাট পাঁচমাথা মোড় থেকে ঝনঝনিয়া পুল পর্যন্ত ওই রাস্তাটির নাম আগে ‘নেতাজি সুভাষ রোড’ থাকলেও পরে বিজেপি সরকার (Government Of West Bengal) নাম বদলে ‘ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী রোড’ রেখেছিল। জানিয়ে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছিল। শেষপর্যন্ত চাপে পড়ে শ্যামাপ্রসাদের (Shyama Prasad Mukherjee) নামের ফলক সরিয়ে বসানো হল ‘নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু রোড’-এর ফলক।

রাস্তার নাম পরিবর্তন নিয়ে ঝামেলা

রাজ্যে প্রথমবার বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসতেই একের পর এক পরিবর্তনের ডাক দিয়ে চলেছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রেই গৈরিকীকরণ দেখা যাচ্ছে, কোথাও বিল্ডিং-এর রং পরিবর্তন তো কোথাও আবার রাস্তার নাম পরিবর্তন। যা নিয়ে বাড়ছে বিতর্ক, বীরভূমের রামপুরহাটেও কিছুদিন আগে রাস্তার নাম পরিবর্তন নিয়ে ঝামেলা তৈরি হয়েছিল। দীর্ঘকাল ধরে পুরসভার পাঁচমাথা মোড় থেকে ঝনঝনিয়া পুল পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার রাস্তার নাম ছিল নেতাজি সুভাষ চন্দ্র রোড, কিন্তু সেই রাস্তার নাম রাতারাতি বদলে দিয়ে করা হয়েছিল শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি রোড। সেই নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল এলাকায়। সকলের একটাই প্রশ্ন কেন এই নাম পরিবর্তন।

কী বলছেন বিজেপি বিধায়ক?

শেষপর্যন্ত, গতকাল, শুক্রবার সন্ধ্যায় স্বাধীনতার প্রাক্কালে বিতর্কের মুখে একপ্রকার চাপে পড়েই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নামাঙ্কিত বোর্ড সরিয়ে দিল বিজেপি। সকলের ধারণা রাজ্যে নেতাজি ইস্যু নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, সেই কারণে এই পদক্ষেপ, তবে সেই গুজব উড়িয়ে দিয়ে রামপুরহাটের বিজেপির বিধায়ক ধ্রুব সাহা বলেন, “শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে যেমন সম্মান করি, নেতাজিকেও তেমনই সম্মান করি, তাই আমরা কোনও বিতর্কের ফাঁদে পড়তে চাই না।” যদিও তা মানতে চায়নি সিপিএমের বীরভূম জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য সঞ্জীব মল্লিক। তিনি বলেন, “চাপে পড়ে করেছে। যদি অনুশোচনা থেকে হত, তাহলে যেদিন এটা করেছিল, তার পরের দিন করে দিতে পারত এটা।”

আরও পড়ুন: AI প্রশিক্ষণ থেকে অনলাইন কোচিং, স্বাধীনতা দিবসে জেন জিদের পাশে থাকার বার্তা মোদীর

সম্প্রতি, মুখ্যমন্ত্রীর শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর অবমাননা করলে সকলকে সমান ‘শাস্তি’ দেওয়া হবে। কেউ ছাড় পাবেন না, সে যত বড় নেতা বা মন্ত্রী হোক। ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর আদেশে এই ঘটনায় পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এমনকি বৃহস্পতিবার, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে কুকথা বলার ফলস্বরূপ অনন্ত মহারাজের ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মান কেড়ে নিয়েছে বিজেপি সরকার। তাই স্বাভাবিকভাবে এই অবস্থায় রামপুরহাটের রাস্তার পুরনো নামই ফিরিয়ে দেওয়া নিয়ে শুরু হয়েছে একাধিক সমালোচনা।

google button