সীমান্তে অনুপ্রবেশ রুখতে তৎপরতা, BSF-কে জমি দিতেই শুরু হল বেড়া নির্মাণের কাজ

Published:

India Bangladesh Border

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: নিরাপত্তা ব্যবস্থা হবে আরও জোরদার, বিএসএফকে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে (India Bangladesh Border) কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজে জমি হস্তান্তর করার পরেই শুরু হয়ে গেল কাজ। সীমান্ত জুড়ে মাটি খোঁড়ার কাজ (BSF Border Fencing Work) শুরু হয়ে গিয়েছে, ইতিমধ্যেই ভাইরাল সেই ভিডিও এবং ছবি। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও যাতে কোনো ত্রুটি না থাকে তার জন্য রাজ্য সরকারের এই বড় পদক্ষেপ আপ্লুত রাজ্যবাসী।

সীমান্তে শুরু হয়েছে বেড়া নির্মাণের কাজ

প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, নতুন সরকারে গঠনের প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই BSF কে জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তারপরেই সীমান্ত এলাকায় পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং সুরক্ষার স্বার্থে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে থাকা বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সকে (বিএসএফ) এই জমি দেওয়া হয়েছিল। এখন চলছে সীমান্তে বেড়া নির্মাণের কাজ। সম্প্রতি বিএসএফ (BSF)-এর কাছে ১,০২৪.৭৫ একর জমি হস্তান্তর করায় এই কাজ সম্ভব হয়েছে বলে জানা গিয়েছে ।

আরও পড়ুন: মোদি সরকারকে সরানোর হুঁশিয়ারি বাংলাদেশ থেকে

বিগত সরকারের জন্য আটকে ছিল কাজ

সূত্রের খবর, রাজ্যের বিজেপি সরকারের সীমান্তবর্তী জমি হস্তান্তরের ফলে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী ৯টি জেলার ১৭২.৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকায় বেড়া দেওয়া সহজ হবে বলে আশা রাখছেন সাধারণ মানুষ। আসলে বিগত সরকারের আমলে জমি অধিগ্রহণ ও হস্তান্তর সংক্রান্ত জটিলতার কারণে কিছু এলাকায় কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। অভিযোগ ছিল যে, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জমি চাইলেও, রাজ্য সরকার গড়িমসি করায় সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার কাজ ব্যহত হয়েছিল। এই নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে একাধিক বার আলোচনাও হয়েছে।

মূলত, আন্তর্জাতিক সীমান্তে অনুপ্রবেশ, চোরাচালান এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কাজ রুখতে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। তাই মে মাসে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা দখলের পরেই কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার একযোগে সীমান্তে জমির সমস্যা মিটিয়ে কাঁটাতার দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে পদক্ষেপ করা শুরু করেছে। আশা করা যাচ্ছে খুব শীঘ্রই বেড়া নির্মাণের কাজ শেষ হবে।

আরও পড়ুন: বাজারে নকল সিগারেটের রমরমা! বাজেয়াপ্ত একাধিক প্যাকেট

প্রসঙ্গত, রাজ্য সরকারের এই জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর ফলে একদিকে যেমন আন্তর্জাতিক সীমান্তে নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও নিশ্ছিদ্র করা সম্ভব হবে ঠিক তেমনই কেন্দ্রীয় বাহিনীগুলির কাজের সুবিধার্থে পরিকাঠামো দ্রুত গড়ে তোলা যাবে। রাজ্য সরকারের এই ইতিবাচক পদক্ষেপের ফলে সীমান্ত সুরক্ষার কাজ অনেকটাই গতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

google button