সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ নির্মাণ এবং জবরদখল উচ্ছেদে প্রশাসনের বুলডোজার অভিযান ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে সব অবৈধ নির্মাণ। তবে এক অভিনব ঘটনার সাক্ষী থাকল পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া (Panskura)। এবার কোনও বেআইনি পার্টি অফিস বা অবৈধ দোকান নয়, বরং অবৈধ জমি দখল করে গড়ে ওঠার অভিযোগে ১১৫ বছরের এক ঐতিহ্যবাহী প্রাথমিক স্কুল ভাঙতে হাজির বুলডোজার। এমনকি স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রবল বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয় পুলিশ প্রশাসনকে।
পাঁশকুড়ায় স্কুল ভাঙতে হাজির বুলডোজার
প্রশাসনের দাবি, বাহারপোতা ১ নং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একাংশ সরকারি খাস জমিতে বেআইনিভাবে নির্মিত হয়েছে। সেই নির্দেশেই শনিবার সকালে বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং বুলডোজার নিয়ে হাজির হন প্রশাসনিক আধিকারিকরা। তবে বুলডোজার পৌঁছতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দা, অভিভাবক এবং প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীরা। এমনকি বুলডোজারের সামনে দাঁড়িয়ে পথ আটকে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন তাঁরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে তীব্র বচসা এবং ধস্তাধস্তি শুরু হয় আমজনতার। মুহূর্তের মধ্যে রণক্ষেত্রের রূপ নেয় স্কুল চত্বর।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, ওই স্কুলটি প্রায় ১১৫ বছর ধরে এই অঞ্চলের বহু প্রজন্মকে শিক্ষার আলো দেখিয়ে এসেছে। কোনও বিকল্প ব্যবস্থা না করে এভাবে ঐতিহ্যবাহী এই প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিকে ভেঙে দেওয়া যাবে না। এতে গ্রামের শিশুদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হবে। স্কুল ভাঙার চেষ্টা করলে প্রয়োজনে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। তবে শেষমেশ জনতার তীব্র প্রতিরোধ আর আইন-শৃঙ্খলার অবনতি হওয়ার আশঙ্কায় উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত করতে বাধ্য হয় প্রশাসন, এবং বুলডোজার নিয়ে পিছু হটে পুলিশ বাহিনী।
আরও পড়ুন: স্কুলের জমি দখল করে সেবাশ্রয় নির্মাণের অভিযোগ, অভিষেকের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা
স্থানীয় এক বাসিন্দার কথায়, “এই স্কুলটি শতাব্দীর বেশি পুরোনো। আমি তো এখানে পড়েছিই। আমার পাশাপাশি আমার বাপ-ঠাকুরদাও এই স্কুলে পড়াশোনা করেছে। বর্তমানে আমার ছেলে এই স্কুলে পড়ছে। গ্রামের মধ্যে এটিই একমাত্র প্রাথমিক স্কুল। এই স্কুলকে অবৈধ বলে ভেঙে দেওয়া আমরা বরদাস্ত করব না। প্রয়োজনে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেব।”










