প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর অবশেষে গদি পরিবর্তন হল বাংলার রাজনীতিতে। ২০০-র বেশি আসন নিয়ে প্রথমবার বাংলার মসনদে বসতে চলেছে বিজেপি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে এক চাপা উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। চারিদিকে ভোট পরবর্তী হিংসামূলক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এমতাবস্থায় ফের খবরের শিরোনামে উঠে এল সিঙ্গুরে জমি ফিরিয়ে (Singur Compensation Case) দেওয়ার মামলা। আর এবার টাকা ফেরতের নির্দেশ নিয়ে বড় রায় দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)।
জট কাটেনি সিঙ্গুরে জমি ফেরতের মামলা
উল্লেখ্য, ২০০৬ সালের বিধানসভা ভোটে জয়লাভ করার পরে হুগলির সিঙ্গুরে টাটার ন্যানো গাড়ি কারখানা প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। এর জন্য টাটাকে ১০০০ একর জমি দেওয়া হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সিঙ্গুরে শিল্প গড়তে পারেনি টাটা। ২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার গঠনের পর টাটার কাছে জমি ফেরত চেয়ে পাঠায়। টাটা গোষ্ঠী জমি ফেরাতে সম্মত হয়। পাশাপাশি, জমি ফেরানো বাবদ খরচ দাবি করে রাজ্য সরকারের কাছে। জমির দামের সঙ্গেই সেই খরচের অন্তর্গত ছিল ওই জমির পিছনে টাটার বিনিয়োগ করা অর্থও। টাটার প্রস্তাবে রাজি হয়নি রাজ্য সরকার। তার পর থেকেই চলছে আইনি লড়াই।
সুপ্রিম কোর্ট থেকে মামলা ফিরে আসে হাইকোর্টে
২০২৩ সালের ৩০ অক্টোবর রাজ্যকে সিঙ্গুরে টাটা মোটরসের কারখানা না-হওয়ার জন্য টাটা গোষ্ঠীকে ৭৬৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল তিন সদস্যের একটি সালিশি আদালত। কিন্তু এই রায় মানতে চায়নি মমতা সরকার তাই হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল। সেখানে রাজ্যের বক্তব্য ছিল, সালিশি আদালতের সভাপতি তথা অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ভিএস সিরপুরকরের সঙ্গে টাটা মোটরসের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। কিন্তু হাইকোর্ট সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। মামলা সুপ্রিম কোর্টে উঠলে সেখানেও রাজ্যের আবেদন খারিজ হয় এবং পুনরায় মামলা হাইকোর্টে ফেরত আসে। তাতেই এবার বড় নির্দেশ দিলেন বিচারপতি।
আরও পড়ুন: ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে বাংলায় মদ ব্যান করবে বিজেপি সরকার? জানুন আসল সত্যি
আট সপ্তাহের জন্য স্থগিতাদেশ
জানা গিয়েছে, আজ অর্থাৎ বৃহস্পতিবার, কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অনিরুদ্ধ রায়ের সিঙ্গল বেঞ্চে সিঙ্গুর জমি সংক্রান্ত মামলাটি উঠেছিল। আর সেখানে মামলার প্রেক্ষাপট ভালো করে আলোচনা করার পর সিঙ্গুরে জমি ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য টাটাদের ৭৬৬ কোটি টাকা ফেরানোর যে নির্দেশ দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল, সেই নির্দেশ আট সপ্তাহের জন্য স্থগিত করে দিল হাইকোর্ট। এবং রাজ্য সরকারকে তাদের ব্যাঙ্ক গ্যারান্টি জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। তারপরেই টাকা ফেরানোর ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।










