আর বিহারের রাস্তার প্রয়োজন হবে না, উত্তরবঙ্গে তৈরি হচ্ছে নয়া ফোর-লেন গ্রিনফিল্ড করিডোর

Published:

Four Lane Greenfield Corridor

অনন্যা সরকার, উত্তর দিনাজপুর: এবার পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন অংশের মধ্যে যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নত করতে নয়া পদক্ষেপ সরকারের। উত্তর দিনাজপুর জেলার সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রক বিহারের কিষাণগঞ্জকে পাশ কাটিয়ে জেলার কানকির নিকটবর্তী গড়হাপ্পা থেকে গোয়ালপোখরের হাটওয়ার পর্যন্ত ২৭ নম্বর জাতীয় সড়ক বরাবর একটি ফোর-লেন গ্রিনফিল্ড করিডোর (Four Lane Greenfield Corridor) নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছে। এই করিডোরটি বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণবঙ্গ থেকে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াত করার জন্য বিহারের উপর দিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা কমবে। 

উত্তরবঙ্গে তৈরি হচ্ছে নতুন ফোর-লেন করিডোর

এই উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রাক্তন সংসদ ও পশ্চিমবঙ্গ ভারতীয় জনতা পার্টির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক লকেট চট্টোপাধ্যায় তার এক্স পোস্টে লিখেছেন, কেন্দ্র কানকির কাছে গড়হাপ্পা থেকে গোয়ালপোখরের হাটওয়ার পর্যন্ত ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ, চার-লেনের একটি গ্রিনফিল্ড এনএইচ-২৭ করিডোর অনুমোদন করেছে, যা উত্তর ও দক্ষিণ বাংলার মধ্যে একটি সরাসরি ও শুধু বাংলাগামী পথ তৈরি করবে। এই করিডোরের ফলে বিহারের যানজটপূর্ণ কিষাণগঞ্জের অংশটি এড়িয়ে যাওয়া যাবে, এই নতুন সড়কপথটি যাতায়াতের সময় কমাবে এবং পণ্যবাহী যান চলাচল সহজ করতে এবং আঞ্চলিক সংযোগ জোরদার করতে সাহায্য করবে।

প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, এই প্রস্তাবিত সড়কটির জন্য ডিটেইলড প্রজেক্ট রিপোর্ট (DPR) তৈরির প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। আশা করা হচ্ছে, এই নতুন করিডোরটি পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন অংশের মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করবে এবং বিহারের মধ্য দিয়ে যাওয়া বর্তমান রাস্তার ওপর নির্ভরতা কমাবে।

আরও পড়ুন: রেশন কার্ডে বিরাট কেলেঙ্কারি! পরিবারের সাথে জুড়ল অচেনা ৪ প্রতিবেশীর নাম

বর্তমানে, রায়গঞ্জ থেকে শিলিগুড়ির দিকে যাওয়া যানবাহনগুলি ডালখোলার পূর্ণিয়া মোড়ে এনএইচ-২৭-এ যুক্ত হওয়ার আগে সাধারণত এনএইচ-১২ ব্যবহার করে। এনএইচ-২৭-এর এই পথটি বিহারের কিষাণগঞ্জ জেলার মধ্যে দিয়ে গিয়ে গোলপোখরের রামপুরের কাছে আবার পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করে। যাত্রীরা ও ট্রান্সপোর্ট অপারেটররা দীর্ঘদিন ধরেই বিহাররের এই অংশে ঘন ঘন যানজট এবং বিলম্বের অভিযোগ করে আসছেন। মূলত আবগারি বিভাগ ও বিহার পুলিশের গাড়ি তল্লাশির কারণেই এই সমস্যা আরও বেড়ে যায়। পূর্ণিয়া মোড়ে, যেখানে এনএইচ-১২ ও এনএইচ-২৭-এর সঙ্গে মিলিত হয়েছে সেখানেও তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। বিহার থেকে আসা বেশ কিছু রাস্তা এখানে এসে মিলেছে, যার ফলে প্রায়শই যানজটের সমস্যা তৈরি হয়।