পাইপের জল ব্যবহারে এবার দিতে হবে কর! কত করে ট্যাক্স চাপাবে রাজ্য সরকার?

Published:

Jal Jeevan

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বাড়ি বাড়ি পাইপলাইনের (Pipeline) মাধ্যমে জল পৌঁছে গেলেও এবার পকেটের টাকা বেশি খসতে চলেছে সাধারণের। হ্যাঁ, কেন্দ্রের এই বিশেষ প্রকল্পেই এবার বেঁধে দেওয়া হচ্ছে জল খরচের পরিমাণও, নেওয়া হবে কর (Tax)। জানা গিয়েছে, ‘জল জীবন মিশন-২’ (Jal Jeevan) প্রকল্পে পরিবার পিছু মাসে ৪০ থেকে ৮০ টাকা ‘মেন্টেনেন্স’ খরচ হিসেবে দিতে হবে। আর তাতেই সবমিলিয়ে বছরে নাগরিকদের থেকে কর হিসেবে তোলা হবে প্রায় ৪৭৯ কোটি টাকা। মাথায় হাত বঙ্গবাসীর।

জলের সুবিধা নিতে গেলে দিতে হবে কর!

গ্রামে নলবাহিত বিশুদ্ধ জল সরবরাহের লক্ষ্যে ২০১৯ সালের ১৫ আগস্ট মোদি সরকার ঘোষণা করেছিল ‘জল জীবন মিশন।’ টার্গেট ছিল ২০২৪ সালের মধ্যেই গ্রামের সব বাড়িতে পৌঁছে যাবে জল। কিন্তু সেই টার্গেট পূরণ করতে পারেননি। তাই ‘জল জীবন মিশন-২’ নামে নতুন লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে ২০২৮ সাল। এই কারণে গত ৫ আগস্ট পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠকে বসেছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সি আর পাতিল। কিছুদিন আগেই কেন্দ্রের সঙ্গে মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং চুক্তি করেছে রাজ্যের নয়া বিজেপি সরকার। আর এই জল প্রকল্পের জন্য মধ্যবিত্ত থেকে প্রান্তিক শ্রেণির থেকে অর্থ নেওয়ার পোশাকি নাম রাখা হয়েছে ‘অপারেশন অ্যান্ড মেন্টেনেন্স’।

পরিবার পিছু মাসে ৪০-৮০ টাকা নেওয়ার পরিকল্পনা

কেন্দ্রের এই জনদরদী প্রকল্প নিয়ে এদিকে সাধারণের মনে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কারণ জল ব্যবহার করলে দিতে হবে টাকা। যদিও জল মন্ত্রক বলছে, পাইপলাইনের রক্ষণাবেক্ষেণের জন্য নেওয়া হবে ওই সামান্য টাকা। এর জন্য পঞ্চায়েত বা ভিলেজ ওয়াটার অ্যান্ড স্যানিটেশন কমিটি নামে তৈরি হবে বিশেষ কমিটি। এলাকাবাসীদের নিয়েই সেই কমিটি ঠিক করবে কী হবে ‘জল কর’। তবে আপাতত প্রাথমিকভাবে বাসিন্দাদের থেকে পরিবার পিছু মাসে ৪০-৮০ টাকা নেওয়ার পরিকল্পনা চলছে। এদিকে এভাবে গ্রামীণ এলাকার গরিবদের থেকে ‘জল কর’ নেওয়ার বিষয়ে বিরোধিতা করছে তৃণমূল।

আরও পড়ুন: মমতার পর এবার হালিশহরে শুভেন্দু, দেখা করবেন মৃতের পরিবারের সঙ্গে

উল্লেখ্য, সংসদে কেন্দ্রীয় জলশক্তিমন্ত্রী সি আর পাতিলের ডাকা রাজ্যওয়াড়ি জনপ্রতিনিধিদের বৈঠকে এক নয়া গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছিল কেন্দ্র। সেখানে বলা হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গের পুর এলাকার বাইরে ১ কোটি ৭৫ লক্ষ ৫০ হাজার ৫৯৮ বাড়ি রয়েছে। তার মধ্যে ট্যাপ ওয়াটার সরবরাহ হয়েছে ৯৯ লক্ষ ৭৮ হাজার ৬৫টি বাড়িতে। ২০১৯ থেকে গত ৩১ জুলাই পর্যন্ত কেন্দ্র-রাজ্য সরকার মিলিয়ে খরচ করেছে ২৮ হাজার ৫৭৭ কোটি টাকা। কিন্তু আপত্তি তুলেছিলেন তৃণমূলের উলুবেড়িয়ার সাংসদ সাজদা আহমেদ।

উলুবেড়িয়ার সাংসদ সাজদা আহমেদ দাবি করেন যে, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে রাজ্য সরকার ৩৯১ কোটি টাকা দিলেও মোদি সরকার এক পয়সাও দেয়নি কেন? শুধু তাই নয়, তিনি এও প্রশ্ন করেন যে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষেও কেন্দ্রের ৫ হাজার ৫০ কোটি টাকা দেওয়ার দায়িত্ব থাকলেও কেন দেওয়া হয়েছিল ২ হাজার ৫২৫ কোটি? তবে এই বিষয়ে মেলেনি কোনো জবাব।