“ঝাড়াই-বাছাই হবে” বাজেটে বেতন বাড়ালেও সিভিকদের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

Published:

West Bengal Budget 2026

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: নতুন সরকারের প্রথম বাজেটেই একেবারে ঢেলে উপহার পেল রাজ্যবাসী (West Bengal Budget 2026)। সরকারি কর্মচারী থেকে শুরু করে আশাকর্মী, পড়ুয়া, পুলিশ কর্মী কিংবা সিভিক ভলেন্টিয়ার, সবাই পেয়েছে সুবিধা। তবে পালাবদলের আগে সিভিক ভলেন্টিয়ার এবং হোম গার্ডদের উদ্দেশ্যে বড় কথা শুনেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেছিলেন যে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে তাদের বেতন বৃদ্ধি হবে। আর এবারের বাজেটে সেই কথাই রাখলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত।

বাড়ল সিভিক ভলান্টিয়ারদের বেতন

পুলিশ প্রশাসনকে দিনরাত পায়ের ঘা মাথায় ফেলে সাহায্য করা সিভিক ভলেন্টিয়ার এবং হোম গার্ডদের এবারের বাজেটে বড় উপহার দিয়েছে রাজ্য সরকার। এবার তাদের মাসিক পারিশ্রমিক একধাক্কায় ২০০০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বাজেটে। আর এই বেতন আগামী আগস্ট মাস থেকে কার্যকর হতে চলেছে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। এমনকি শুধুমাত্র সিভিক বা ভিলেজ পুলিশ নয়, বরং একইসঙ্গে আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা হোম গার্ড কর্মী এবং এনভিএফ কর্মীদের মাসিক পারিশ্রমিক ২০০০ টাকা বাড়ানো হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, আগামী আগস্ট মাস থেকেই রাজ্যের লক্ষ লক্ষ পুলিশ ভলেন্টিয়ার এবং কনট্রাকচুয়াল স্টাফ এই বাড়তি বেতন পাবেন, এবং এই বেতন সরাসরি তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টেই পাঠানো হবে। সরকারের এই ঘোষণায় যে সিভিক ভলেন্টিয়ারদের খুশি দ্বিগুণ বেড়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কারণ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং বিপর্যয় মোকাবিলার মতো ক্ষেত্রে এই সিভিক ভলেন্টিয়ার এবং হোমগার্ডরা সবসময় পরিষেবা দিয়ে থাকেন, এবং দীর্ঘদিন ধরেই তাদের বেতন বৃদ্ধির দাবি জানানো হচ্ছিল। কিন্তু আগের সরকার তা মান্যতা দেয়নি। কিন্তু শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিশ্রুতি বাজেটে রক্ষা করা হল।

আরও পড়ুন: কলেজ পড়ুয়া অবিবাহিত মহিলাদের দেওয়া হবে ৫০ হাজার টাকা, বাজেটে বড় ঘোষণা

সিভিক ভলেন্টিয়ারদের বড় বার্তা

এদিকে বেতন বৃদ্ধি করা হলেও সিভিক ভলেন্টিয়ার এবং ভিলেজ পুলিশ সহ বিভিন্ন চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, এই সমস্ত স্তরের কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক অনিয়ম এবং অস্বচ্ছতা লক্ষ্য করা যায়। কর্মীদের একাংশের শিক্ষাগত যোগ্যতা আর বয়সের প্রমাণপত্র জাল বলে অভিযোগ ওঠে। অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় শারীরিক দক্ষতার অভাব থাকে, এবং তাঁদের বিরুদ্ধে শাসকদলের ক্যাডার হিসেবে কাজ করাতে গুরুতর অভিযোগ ওঠে।

সেক্ষেত্রে বড়সড় ঝাড়াই-বাছাই বা স্ক্রিনিং প্রক্রিয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এমনকি তিনি জানান, “অনেক জল মেশানো হয়েছে। ওদের যোগ্যতা নেই। অনেকেরই এডুকেশন সার্টিফিকেট ভুয়ো। পার্টির ক্যাডার হিসেবে অনেকে কাজ করেন। অনেকের বয়সের সার্টিফিকেট পর্যন্ত নেই। অনেকের আবার শারীরিক দক্ষতা নেই। কিন্তু ভবিষ্যতে পদে টিকে থাকতে গেলে অবশ্যই যোগ্যতার প্রমাণ দিতে হবে।” প্রশাসনের স্পষ্ট বার্তা, “এখন এখনি ঝাড়াই বাছাই এর পথে না হাঁটলেও কর্মীদের যোগ্যতা এবং ডকুমেন্ট পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হবে।” মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “এখন থেকেই মানসিকভাবে প্রস্তুত রাখতে পারেন। কিন্তু একটু ছাঁটাই হবে না। কিন্তু ঝাড়াই-বাছাই হবে।”