কলকাতায় সাংবাদিকদের উপর হামলা ককরোচদের, প্রতিবাদে আজ মিছিলের ডাক বিধায়কদের

Published:

Kolkata

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: গতকাল ধর্মতলার (Kolkata) আন্দোলনের সাংবাদিকদের উপর হেনস্থার (Journalist Attack) ঘটনায় উত্তপ্ত গোটা রাজ্য। এবার সেই প্রতিবাদেই কালো ব্যাজ পরে মিছিলের ডাক দিলেন রাজ্যের বিধায়করা। সূত্রের খবর, আজ অর্থাৎ শনিবার দুপুর ১টা নাগাদ বিধানসভা থেকে প্রেস ক্লাব পর্যন্ত এই মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। সাংবাদিকদের উপর হামলার প্রতিবাদেই এই কর্মসূচি রাজ্যের এমএলএ-দের।

সাংবাদিক হামলার প্রতিবাদে মিছিল কলকাতায়

গতকাল নিটের প্রশ্ন ফাঁসকে কেন্দ্র করে আন্দোলনে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল শহর তিলোত্তমা। ককরোচ জনতা পার্টির সমর্থনে পথে নেমেছিল বাম ছাত্র সংগঠন এসএফআই। কিন্তু সেই মিছিল ধর্মতলা পর্যন্ত পৌঁছনোর পর উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শুরু হয় চরম বিশৃঙ্খলা। এমনকি আন্দোলনের মধ্যে থাকা কিছু দুষ্কৃতি পুলিশকে লক্ষ্য করে জুতো, জলের বোতল ইত্যাদি ছুঁড়ে মারে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে লাঠিচার্জ করতে হয় পুলিশকে। এমনকি সেখানে রেহাই পাননি সাংবাদিকর এবং চিত্র সাংবাদিকরা। বহিরাগতদের হামলায় আক্রান্ত হয়েছেন বেশ কিছু রিপোর্টার। এমনকি তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন হাসপাতালে ভর্তি, যাদের সঙ্গে গতকাল রাতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দেখাও করে এসেছেন।

হাসপাতালে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে আহতদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। এমনকি বাইরে বেরিয়ে তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে স্পষ্ট জানান, “প্রত্যেকটাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। শুধু কটা দিন অপেক্ষা করুন। ওদের কী করতে হয় আমি ভালোভাবে জানি। শুক্রবারে ওরা এই কাজ করেছে। শুক্রবারিদের আসল জবাব সময়ে দেব।” পাশাপাশি এদিন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় হাসপাতালে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা দেখা করেন। এমনকি তিনিও জানান, “এটা কোনও ছাত্র আন্দোলন হতে পারে না। চরম স্বৈরাচারীর পরিচয়। প্রতিবাদীদের আচরণ কোনও ভাবেই ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে মেলে না।”

আরও পড়ুন: শুরু হল শিলিগুড়ি থেকে দিল্লি বাস পরিষেবা, জানুন রুট ও সময়সূচি

ইতিমধ্যেই পুলিশ এই হামলার সঙ্গে জড়িত বেশ কয়েকজনকে চিহ্নিত করেছে। পাশাপাশি ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এমনকি হামলাকারীদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সেই প্রতিবাদেই এবার বিধায়কদের মিছিলের ডাক। কালো ব্যাজ পরে এই পদযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে আজ। তাদের স্পষ্ট দাবি, সংবিধানের চতুর্থ স্তম্ভের উপর এভাবে হামলা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এমনকি এই ঘটনা নিয়ে গোটা রাজ্যজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।