সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার একাদশ শ্রেণীর ছাত্রছাত্রীদের ট্যাব কেনার জন্য তরুণ স্বপ্ন (Taruner Swapna Scheme) প্রকল্প চালু করেছিল, যেখানে শিক্ষার্থীদের ১০,০০০ টাকা অনুদান দেওয়া হতো। করোনা মহামারীর পর অর্থাৎ ২০২১ সাল থেকেই এই প্রকল্প চালু হয়েছিল। তবে নতুন সরকার আসতেই আলোচনা উঠছে, এই প্রকল্প কি বন্ধ হবে? সম্প্রতি বিকাশ ভবনেও এ নিয়ে বৈঠক হয়েছে বলে খবর।
তরুণের স্বপ্ন প্রকল্প নিয়ে অনিশ্চয়তা
আসলে ২০২০ সালের করোনা মহামারীর পর দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটেছিল। অনলাইন ক্লাস করার লক্ষ্যে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চালু করেছিল তরুণ স্বপ্ন প্রকল্প, যেখানে একাদশ শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের ট্যাব কেনার জন্য ১০,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা করা হতো। বিশেষ করে গ্রামীণ বা শহরের নিম্নবিত্ত এলাকার পড়ুয়াদের প্রযুক্তির জগতে প্রবেশ করানোর জন্যই তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর এই উদ্যোগ ছিল। প্রকল্প চালু হওয়ার পর তা ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। এমনকি উত্তরপ্রদেশ, দিল্লির মতো রাজ্যেও এই প্রকল্প চালু রয়েছে। আর গুজরাটে ২০১৭ সাল থেকেই চালু নমো ই-ট্যাবলেট প্রকল্প।
কিন্তু এবার রাজ্যে সরকারের পালাবদল ঘটেছে। সেক্ষেত্রে শিক্ষকদের একাংশের দাবি, এই প্রকল্প বন্ধ করে স্কুলের সার্বিক উন্নয়নের জন্য অর্থ ব্যয় করা হোক। তাঁদের মতে, অনেক পড়ুয়া মাধ্যমিকের পর শুধুমাত্র একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি হচ্ছে ট্যাবের জন্য। তারপর পড়াশোনা ছেড়ে দিচ্ছে। এমনকি সম্প্রতি তরুণের স্বপ্ন প্রকল্পের টাকা অন্য অ্যাকাউন্টে চলে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে, যা নিয়ে রাজ্য সরকার আরও কড়া পদক্ষেপ নেয়। বহু পড়ুয়া নভেম্বর মাসে টাকা পায়নি বলেও অভিযোগ ওঠে।
আরও পড়ুন: বাংলাজুড়ে বিনামূল্যে ক্লিনিক, আয়ুষ্মান মন্দির চালুর পথে রাজ্য সরকার
তবে শিক্ষকদের দাবি, পড়ুয়ারা ট্যাব নিয়ে ইন্টারনেটের অপব্যবহার করছে। এমনকি রিল বানানোর ঝোঁক অনেকের মধ্যেই বাড়ছে। সার্বিক পড়াশোনার ক্ষেত্রে সিংহভাগ পড়ুয়ারা ট্যাব ব্যবহার করছে না। এমনকি অনেক পরিবারের ট্যাব কেনার সামর্থ্য থাকলেও তারাও হুরিয়ে ট্যাবের টাকা নিচ্ছে। সেই সূত্রে বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষকর্মীর সমিতি সাধারণ সম্পাদক স্বপন মন্ডল দাবি করেন যে, এই খাতে এত বড় অংকের টাকা ব্যয় না করে স্কুলের পরিকাঠামো উন্নত করা উচিত। যদিও রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কোনও জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বন্ধ হবে না। কিন্তু শিক্ষামহলের দাবি ভিন্ন। এখন দেখার রাজ্য সরকার এ বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়।










