আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: পুজোর মুখে চাকরি হারানোর আশঙ্কা। আর সেই অনিশ্চয়তার প্রতিবাদে বিকাশ ভবনের (Bikash Bhavan) সামনে চুক্তিভিত্তিক কম্পিউটার শিক্ষকদের (Contractual Computer Teachers) অবস্থান গড়িয়েছে প্রায় ৩০ ঘণ্টায়। সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। এর মধ্যেই তাঁদের পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল স্কুলশিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মণের সঙ্গে বৈঠক করতে গিয়েছে।
কী বলছেন আন্দোলনকারীরা?
আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, বৈঠক থেকে ইতিবাচক কোনও সমাধান বেরিয়ে আসতে পারে বলেই আশা করছেন তাঁরা। তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে অবস্থান প্রত্যাহারের কোনও প্রশ্ন নেই বলেই জানিয়েছেন তাঁরা। এক আন্দোলনকারী শিক্ষকের কথায়, “স্কুলশিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে সমস্যার সমাধান না হলে আন্দোলন লাগাতার চলবে। এখানেই বসে থাকব, যতদিন না সমাধান পাই।”
কেন আন্দোলনে ৩৭১৯ জন শিক্ষক?
এই আন্দোলনের কেন্দ্রে রয়েছেন ICT প্রকল্পের ষষ্ঠ ও সপ্তম পর্যায়ের ৩,৭১৯ জন কম্পিউটার শিক্ষক-শিক্ষিকা। বিভিন্ন সরকারি ও সরকারপোষিত স্কুলে তাঁদের নিয়োগ হয়েছিল বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমে। রিপোর্ট অনুযায়ী, পাঁচ বছরের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কারণে এই শিক্ষকদের চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ৩০ সেপ্টেম্বর তাঁদের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, তাঁরা দীর্ঘদিন স্কুলে কাজ করলেও এখনও সরাসরি সরকারের অধীনে চুক্তিভিত্তিক কর্মী হিসেবে স্বীকৃতি পাননি। অন্যদিকে ICT-এর প্রথম থেকে পঞ্চম পর্যায়ের শিক্ষকদের সরকারি চুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে বলে তাঁদের দাবি। ফলে একই ধরনের কাজ করেও ষষ্ঠ ও সপ্তম পর্যায়ের শিক্ষকদের সঙ্গে বৈষম্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ আন্দোলনকারীদের।
চাকরির নিরাপত্তার পাশাপাশি বেতন নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে শিক্ষকদের। আন্দোলনকারীদের দাবি, আগের পর্যায়ের সরকারি চুক্তিভিত্তিক শিক্ষকেরা তুলনামূলক বেশি পারিশ্রমিক ও অন্যান্য সুবিধা পান। আর ষষ্ঠ ও সপ্তম পর্যায়ের শিক্ষকেরা এজেন্সির অধীনে থেকে অনেক কম টাকা পান। বিভিন্ন রিপোর্টে এই বেতন-বৈষম্যের অভিযোগ উঠে এসেছে।
সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে মাসে ৩২ হাজার টাকা পারিশ্রমিকের দাবিও জানানো হয়েছে। ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, বর্তমানে কিছু ICT শিক্ষক মাসে প্রায় ৭ হাজার টাকা পান বলে তাঁদের সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
কী চাইছেন আন্দোলনকারীরা?
তাঁদের দাবি, পুরনো এজেন্সি ব্যবস্থার অধীনে রেখে তাঁদের চাকরির মেয়াদ শেষ করে দিলে চলবে না, বরং আগের পাঁচটি পর্যায়ের মতো তাঁদেরও সরাসরি সরকারি চুক্তিভিত্তিক কর্মী হিসেবে নিয়োগ করতে হবে। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, তাঁরা স্থায়ী চাকরির দাবি করছেন না, তাঁদের মূল দাবি আগের পর্যায়ের শিক্ষকদের মতো চুক্তিভিত্তিক সরকারি নিয়োগ।
গত সোমবার বিকাশ ভবন অভিযানের সময় পুলিশি বাধার মুখে পড়েছিলেন আন্দোলনকারীরা। বিকাশ ভবনের সামনে পৌঁছনোর আগে করুণাময়ী এলাকায় তাঁদের আটকে দেওয়া হয় বলে জানা যাচ্ছে। পরে তাঁরা রাস্তায় বসে অবস্থান শুরু করেন। কোথাও কোথাও পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনাও সামনে এসেছে।
আরও পড়ুন: “আমাদের লক্ষ্য নির্বাচন কমিশন” দিল্লি পৌঁছে সিইসি-কে ‘ভ্যানিশ জি’ বলে কটাক্ষ মমতার
এর পর রাতভর অবস্থান চলেছে। মঙ্গলবারও সেই অবস্থান অব্যাহত রয়েছে। এখন পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে স্কুলশিক্ষা দফতরের বৈঠকের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে আন্দোলনকারীরা। তাঁদের বক্তব্য স্পষ্ট, দাবির বিষয়ে কার্যকর সমাধান না হওয়া পর্যন্ত বিকাশ ভবনের সামনে অবস্থান চালিয়ে যাবেন।










