আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ‘খেলা হবে’ স্লোগান এবং গানকে সামনে রেখে তৃণমূলের (TMC) প্রচারে অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন দেবাংশু ভট্টাচার্য (Debangshu Bhattacharya)। দলের সোশ্যাল মিডিয়া প্রচারেও সক্রিয় ভূমিকা ছিল তাঁর। সেই নির্বাচনে তৃণমূল ক্ষমতায় ফেরার পর দলের অন্দরে তাঁর জনপ্রিয়তা তখন তুঙ্গে। পরে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তমলুক এবং ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে চুঁচুড়া থেকে প্রার্থী হন দেবাংশু। কিন্তু ২০২৬-এ তৃণমূল ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তিনিও নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন।
লোকচক্ষুর অন্তরালে কোথায় রয়েছেন দেবাংশু?
দল বদলের পর থেকেই প্রকাশ্যে তাঁর উপস্থিতি অনেকটাই কমে গিয়েছে। টেলিভিশনের রাজনৈতিক বিতর্কে তাঁকে আগের মতো দেখা যাচ্ছে না, সোশ্যাল মিডিয়াতেও তাঁর সক্রিয়তা প্রায় নেই। এমনকি হুগলির শ্রীরামপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক সভাতেও তাঁকে দেখা যায়নি। ফলে দেবাংশুকে ঘিরে নানা জল্পনা ও সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন মিম ছড়াতে শুরু করে। তবে বর্তমানে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবেই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে কিছুটা দূরে রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
বর্তমানে পরিবারকে সময় দেওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন দেবাংশু। বাবা-মায়ের পাশে থাকা, তাঁদের দেখাশোনা এবং ব্যক্তিগত জীবনের কিছু দায়িত্ব সামলাতেই ব্যস্ত রয়েছেন তিনি। পাশাপাশি দিদির বিয়ের আয়োজন নিয়েও ব্যস্ততা রয়েছে। দীর্ঘদিন রাজনীতির ব্যস্ততায় পরিবার এবং নিজের জন্য সময় দিতে পারেননি, এখন সেই সময়টাই কাজে লাগাতে চাইছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তাই আপাতত সোশ্যাল মিডিয়াতেও খুব বেশি সময় দিচ্ছেন না।
আরও পড়ুন: অক্টোবরের শুরুতেই টানা ৩ দিন ছুটি স্কুল-কলেজ, অফিস! দেখুন নবান্নের হলিডে লিস্ট
রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি কিংবা তাঁকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় চলা আলোচনা নিয়েও খুব একটা মাথা ঘামাচ্ছেন না দেবাংশু। পালাবদলের পর গত ১৩ জুন দলের বিরুদ্ধে সরব হয়ে একটি পোস্ট করেছিলেন তিনি। তার কয়েকদিন পর ঋতব্রত ব্যানার্জিদের পৃথক রাজনৈতিক শিবির নিয়েও কটাক্ষ করেছিলেন। কিন্তু তারপর থেকে তাঁর অ্যাকাউন্টে আর তেমন কোনও রাজনৈতিক পোস্ট দেখা যায়নি। কেন নিজেকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে রাখছেন, তার পুরো ব্যাখ্যা অবশ্য প্রকাশ করেননি দেবাংশু। ফলে তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোন দিকে এগোবে, সেটা একমাত্র তিনিই জানেন।










