অনন্যা সরকার, হুগলি: বাস ইউনিয়নের (Bus Union) সেক্রেটারি পদে থাকা তৃণমূলের নেতা টাকা লোপাট করেছে – সেই অভিযোগে বাস চালানোই (Bus Service) বন্ধ করে দিলেন চালক ও কন্ডাকটররা। শনিবার হুগলি জেলার ধনিয়াখালিতে ঘটা এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকাজুড়ে। প্রাপ্য টাকা দেননি বলে বাস ইউনিয়নের সেক্রেটারির বিরুদ্ধে ধনিয়াখালি বাসস্ট্যান্ডে বাস চালক ও কন্ডাকটররা বিক্ষোভ শুরু করেন। এর জেরে থেমে যায় চুঁচুড়া থেকে তারকেশ্বর-আরামবাগ রুটের বাস চলাচল।
প্রাপ্য না পেলে বিক্ষোভ চলবে জানালেন বাসের কর্মীরা
ধনিয়াখালির বাস চালক সুশান্ত পাল অভিযোগ করেছেন, তৃণমূলের আমলে বাস ইউনিয়নের শীর্ষে বসে ছিলেন শেখর হাজরা, জাকির হোসেনের মতো নেতারা। তাঁরা যথেচ্ছভাবে ইউনিয়নের টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। হুগলিরর বাস চালক ও কন্ডাক্টররা তাঁদের প্রাপ্য অর্থ ও সুযোগ-সুবিধা কিছুই পাননি বলে ক্ষোভ উগরে দেন এদিন।
আরও পড়ুন: মালদায় সমুদ্র সৈকতের আমেজ, ঘুরে আসুন ‘উত্তরবঙ্গের দিঘা’ ভাটরা বিল থেকে
চুঁচুড়া থেকে তারকেশ্বর-আরামবাগ রুটের আরেক বাস চালক বিশ্বনাথ দাস জানিয়েছেন, বাস ইউনিয়নের মাথায় থাকা তৃণমূল নেতাদের থেকে গত আট বছর ধরে কোনো টাকার হিসাব পান নি কর্মীরা। তিনি বলেন, এই অভিযোগ নিয়ে তাঁরা পুলিশ থেকে শুরু করে বিধায়ক – সকলের দোরে দোরে ঘুরেছেন। আগামী দিনেও যদি তারা টাকার হিসেবে না পান, তাহলে আন্দোলন জারি থাকবে বলে সাফ জানিয়ে দেন চালক ও কন্ডাকটররা।
আরও পড়ুন: ৯০০ কোটি খরচে বাইপাসে ফ্লাইওভার, দুই ব্যস্ততম মোড়ে স্কাইওয়াকের প্ল্যান রাজ্য সরকারের
ওই বিক্ষোভ প্রসঙ্গ চুঁচুড়ার বিধায়ক সুবীর নাগ জানিয়েছেন, গ্রামের দিকে একাধিক রুটে বাসের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। অনেক জায়গাতেই রাজনৈতিক ভাবে দখলদারি চালাচ্ছিল আগের সরকার। তিনি বলেন, এখন থেকে বাসের মালিক এবং কর্মচারীরা মিলে ইউনিয়ন চালাবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে সহযোগিতার জন্য সরকার পক্ষের কেউ থাকতে পারে। কিন্ত ইউনিয়নের কোনো দখলদারি আর বরদাস্ত করা হবে না বলেও স্পষ্ট করে দেন বিধায়ক। তিনি বার্তা দিয়েছেন, যাদের যা দাবিদাওয়া ও অভিযোগ আছে সেটা সবাই মিলে বসে আলোচনার মাধ্যমে মেটাতে হবে। বাস ইউনিয়নকে নিয়ে দখলদারির অভিযোগ উঠলে প্রশাসনকে কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে বলেও জানান সুবীর নাগ।









