প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বিতর্ক কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের (Jadavpur University).. বাম ছাত্রসংগঠন SFI এর সঙ্গে ABVP-র সংঘর্ষের রেশ (ABVP SFI Clash At Jadavpur University) এখনও চাঙ্গা ক্যাম্পাস চত্বরে। গত বুধবারই যাদবপুর কাণ্ডে যাদবপুরের বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায় হুঙ্কার দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, দেশবিরোধী স্লোগান বরদাস্ত করা হবে না। আর এবার যাদবপুর কাণ্ডে ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ এর হুঁশিয়ারি দিলেন পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। শুধু তাই নয় যাদবপুরে এই পরিস্থিতির জন্য পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে দায়ী করলেন তিনি।
কী বললেন দিলীপ ঘোষ?
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, আজ শুক্রবার সকালে প্রাতঃভ্রমণে গিয়ে যাদবপুর কাণ্ড নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। এবং এই পরিস্থিতির জন্য পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে সরাসরি দায়ী করলেন তিনি। দাবাং দিলীপ এদিন বলেন, “আমি ইন্দোরে গিয়েছিলাম। তাই কী হয়েছে ঠিক জানি না। তবে দেশবিরোধী কাজ চলতে দেওয়া যাবে না। তৃণমূল ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশবিরোধীদের প্রশ্রয় দিয়েছে দিনের পর দিন। কিন্তু এখন তা আর চলবে না। কারণ, সরকার পরিবর্তিত হয়েছে।” এছাড়াও তিনি জানান, ”আগেও এবিভিপি সার্জিকাল স্ট্রাইক করেছে। দেশবিরোধী স্লোগান উঠলে আবার যাদবপুরে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক হবে। ৬ মাস অপেক্ষা করুন, অনেক কিছু হবে।”
#WATCH | West Bengal Minister Dilip Ghosh says, “There are some groups active in Jadavpur University which always raise anti-national slogans. Before this, the Governor was misbehaved with. There should be no anti-national and anti-social activities in a university. There should… pic.twitter.com/IyfPonmFe2
— ANI (@ANI) August 21, 2026
বৃহস্পতিবার আরও উত্তাল হয়ে ওঠে যাদবপুর
গত বুধবার রাতে জিবি মিটিংকে কেন্দ্র করে SFI এবং ABVP দের মধ্যে জোর সংঘর্ষ শুরু হওয়ায় রীতিমত উত্তাল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল ঐতিহ্যবাহী যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। অভিযোগ, অরবিন্দ ভবনে বৈঠক চলাকালীন আচমকা এবিভিপি-র জনা কয়েক সদস্য সেখানে ঢুকে হামলা চালায়। পাল্টা অভিযোগ ওঠে যে, তাঁরা এবিভিপি সদস্যদের মারধর করে। এই অশান্তি ঘিরে বৃহস্পতিবার সকালেই প্রতিবাদের কর্মসূচির ডাক দেয় বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এসএফআই। এমনকি পালটা মিছিল বের করে এবিভিপি। আরও উত্তাল হয়ে ওঠে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। বুধবার, রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন যাদবপুরের বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়।
আজই গঠন হবে তদন্ত কমিটি
বাম সংগঠনগুলিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে শর্বরী মুখোপাধ্যায় বলেন যে, “যাদবপুর রাষ্ট্রবিরোধী মেশিনারি তৈরির কারখানা। বারবার দেশবিরোধী স্লোগান, দেশবিরোধী আন্দোলন আমরা করতে দেব না। রাষ্ট্রবিরোধী কথা বলা যাবে না। আমরা প্রথমে দেশের নাগরিক, তাই দেশের হয়ে কথা বলতে হবে। ইনশাআল্লা, আজাদি বলা যাবে না।” জানা গিয়েছে আজ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করতে চলেছেন যাদবপুর কর্তৃপক্ষ। ঘটনার সূত্রপাত কোথায়, কী থেকে, কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হল, যাচাই করা হবে। এ ছাড়া, বিকেল ৩টে নাগাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশীদারদের একটি বৈঠক রয়েছে। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য কী কী করা দরকার, তা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
আরও পড়ুন: তিনিই এঁকেছিলেন যাদবপুরের প্রতীক, ভেঙে দিল কারা? জানুন কে এই নন্দলাল বসু
জানা গিয়েছে, আজ অরবিন্দ ভবনে বহিরাগতদের হামলা, অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের এমব্লেম বা প্রতীক ভাঙার প্রতিবাদে দুপুর ২টো থেকে ৪টে পর্যন্ত অর্ধদিবস কর্মবিরতি ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি। তাঁরা ওই সময়ে অরবিন্দ ভবনে অবস্থান বিক্ষোভ করবেন। বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষকদের সকলকে তাতে যোগ দেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে। এখন দেখার এই ঘটনায় ঠিক কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন প্রশাসন।










