বাংলার স্কুলে বায়োমেট্রিক হাজিরা পদ্ধতি চালু, সাথে স্মার্ট ক্লাসরুমও

Published:

Surendra Smriti Vidyamandir

অনন্যা সরকার, পিংলা: পশ্চিম মেদিনীপুরের (Paschim Medinipur) পিংলার স্কুলে চালু হল জেলার প্রথম বায়োমেট্রিক হাজিরা পদ্ধতি। পিংলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে একটি ছোট্ট গ্রাম ছোটখেলনা। সেখানেই রয়েছে ছোটখেলনা সুরেন্দ্র স্মৃতি বিদ্যামন্দির (উ:মা:)। সাজানো গোছানো স্কুলটির চারপাশের পরিবেশ যেমন মনোরম, তেমনই শৃঙ্খলার দিকেও স্কুল কর্তৃপক্ষের সমান দৃষ্টি। বুধবার (১৭ জুন) সেই স্কুলে চালু হল বায়োমেট্রিক হাজিরা পদ্ধতি (Biometric Attendance System)। শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্রছাত্রী সহ সকল স্কুল কর্মীদেরকে এই পদ্ধতিতে হাজিরা দিতে হবে। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় এটিই প্রথম স্কুল, যেখানে হাজিরার ক্ষেত্রে এই অত্যাধুনিক ব্যবস্থা চালু হল। 

বায়োমেট্রিক পদ্ধতির সাথে রয়েছে স্মার্ট ক্লাসরুমও 

বুধবার ছিল সবং বিধানসভার অধীন পিংলা থানার অন্তর্গত ছোটখেলনা সুরেন্দ্র স্মৃতি বিদ্যামন্দিরের বার্ষিক অনুষ্ঠান। সেই উপলক্ষে এই বায়োমেট্রিক হাজিরা পদ্ধতির উদ্বোধন করা হয়। সেইসঙ্গে একটি অত্যাধুনিক স্মার্ট ক্লাসরুমেরও উদ্বোধন করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। এর পাশাপাশি, পড়ুয়াদের জন্য নতুন শুশ্রুষা কেন্দ্র (হাসপাতাল), ম্যাথ ল্যাব ও সংগ্রহশালাও তৈরি করা হয়েছে। 

শুধু তাই নয়, অনুষ্ঠানের দিন উন্মোচিত হয়েছে স্বামী বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বি.আর. আম্বেদকর, সর্বপল্লি রাধাকৃষ্ণণ এবং ঝাঁসির রানি লক্ষ্মীবাঈয়ের পূর্ণাবয়ব মূর্তি। ছোটখেলনা সুরেন্দ্র স্মৃতি বিদ্যামন্দিরের শিক্ষার্থীদের সংখ্যা নেহাত কম নয়। পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় দু’হাজার ছাত্রছাত্রী এই সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত স্কুলে পড়াশোনা করে। শিক্ষক শিক্ষিকা রয়েছেন মোট ৩৮ জন। প্রধান শিক্ষক পবিত্রকুমার গৌড়ী এদিন জানান, সারা বছর ধরেই এই বিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা পড়াশোনার পাশাপাশি নানা কো-কারিকুলার অ্যাটিভিটিতেও আগ্রহের সাথে অংশ নেয়। 

আরও পড়ুনঃ বর্ষা এলেও কমেনি তাপপ্রবাহ, কয়েকটি জেলার স্কুলে গরমের ছুটি বাড়ানোর ঘোষণা

প্রধান শিক্ষক বলেন, স্কুলে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি থেকে স্বাস্থ্য শিবির – বিভিন্ন সময় নানা সামাজিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।  ছাত্র-ছাত্রীদের উন্নত শিক্ষা প্রদানের উদ্দেশ্যে স্মার্ট ক্লাসরুম ও ম্যাথ ল্যাবরেটরির উদ্বোধন করা হয়েছে।  তার সাথে সরকারের নির্দেশিকা আসার আগেই চালু হয়েছে বায়োমেট্রিক হাজিরা পদ্ধতি। বুধবার স্কুলের বার্ষিক সাংস্কৃতিক ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত ছিলেন বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি। মঞ্চে উপস্থিত থাকতে দেখা যায় রাজ্যের বর্তমান মন্ত্রী ও  প্রাক্তন ভারতীয় দলের ক্রিকেটার অশোক দিন্দা, সবংয়ের বিধায়ক অমল পন্ডা, রামকৃষ্ণ মিশনের মহারাজ স্বামী আত্মনাথনন্দ এবং আরও অনেককে। রাজ্যের মন্ত্রী অশোক দিন্দা ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তারা যেন সুনাগরিক হয়ে ওঠে। বিধায়ক অমল পণ্ডা তাদের মানুষের মতো মানুষ হয়ে ওঠার জন্য কামনা করেন।