প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার কিউসেক জল ছাড়ছে DVC, বন্যার আশঙ্কা দক্ষিণবঙ্গের ৪ জেলায়

Published:

DVC

সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ ভারী বৃষ্টিতে নাকাল উত্তরবঙ্গ থেকে শুরু করে দক্ষিণবঙ্গ। দিকে দিকে হাঁটু সমান নয়তো কোমর সমান জল জমে রয়েছে। ঘূর্ণাবর্ত, নিম্নচাপ, মৌসুমি অক্ষরেখা মিলিয়ে গত দুদিন ধরে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি পেয়েছে সমগ্র বাংলা। এদিকে গোঁদের ওপর বিষফোঁড়া হয়েছে ডিভিসি (DVC)-র তরফে মাইথন, পাঞ্চেত ড্যাম থেকে জল ছাড়া হচ্ছে। যার ফলে দিকে দিকে বন্যার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কিন্তু এখানেই শেষ নয়, বন্যার জন্য আজ বৃহস্পতিবারও বিভিন্ন জেলায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। প্লাবনের ব্যাপক আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বন্যার আশঙ্কা ৪ জেলায়

জানা গিয়েছে, আজ মাইথন থেকে আরও প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার কিউসেক জল ছাড়তে চলেছে ডিভিসি বলে খবর। যার ফলে সিঁদুরে মেঘ দেখছে বহু জেলা। দুশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছেন হাওড়া, হুগলি, বাঁকুড়া পূর্ব বর্ধমানের দামোদর-পাড়ের মানুষ। এমনকি মুণ্ডেশ্বরী, রূপনারায়ণ পাড়েও নবান্নের তরফে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জলাধার এলাকাগুলোতে ভারী বৃষ্টিপাত এবং ঝাড়খণ্ডের তেনুঘাট বাঁধ থেকে জলের প্রবাহ বৃদ্ধির কারণে জল ছাড়া হয়েছে।

সতর্কতা জারি প্রশাসনের

ডিভিসি-র পক্ষ থেকে বন্যা সতর্কতা জারি করা হয়েছে বলে এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ডিভিসি-র জল ছাড়ার ফলে বাংলার উল্লেখিত ৪ জেলা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হবে। দামোদর উপত্যকা জলাধার নিয়ন্ত্রণ কমিটি (ডিভিআরআরসি) বুধবার সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মাইথন ও পাঞ্চেত জলাধার থেকে জল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “ডিভিসি পশ্চিমবঙ্গ সরকার, জেলা প্রশাসন এবং আসানসোলের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে সতর্ক করেছে এবং নদী তীরবর্তী এলাকায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে ও নিম্ন দামোদর অববাহিকায় সম্ভাব্য বন্যার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছে।’

আরও পড়ুনঃ শীঘ্রই পিস প্রতি ২০-২৫ টাকায় বিক্রি হবে ডিম? নেপথ্যে এই একটি জিনিস

তিনি আরও বলেন, জলাধার দুটির উৎস অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত এবং তেনুঘাট বাঁধ থেকে অতিরিক্ত জলপ্রবাহের কারণে সেগুলোর ওপর বাড়তে থাকা চাপ সামাল দিতেই জল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৃষ্টিপাত ও জলপ্রবাহের অবস্থার পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করে জল ছাড়ার পরিমাণ পর্যালোচনা করা হতে পারে বলে আরেকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।