আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধা পাবেন না যদি এটা না থাকে, বিশেষ উদ্যোগ স্বাস্থ্য দপ্তরের

Published:

Ayushman Bharat e-KYC

অনন্যা সরকার, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্প বন্ধ করে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘আয়ুষ্মান ভারত’ (Ayushman Bharat / PM-JAY) প্রকল্প কার্যকর করার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই চালু হয়ে গিয়েছে। কিছুদিন আগেই জানা গেছে সরকার বাড়ি বাড়ি আয়ুষ্মান ভারতের কার্ডের জন্য ফর্ম বিলি করা শুরু করেছে। এখন এই প্রকল্প নিয়ে সামনে এল আরো একটি বড় আপডেট। জানা গেছে, আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধা পেতে গেলে বাধ্যতামূলকভাবে প্রতিটি গ্রাহকের ই-কেওয়াইসি (e-KYC) থাকতে হবে। তাই এই কাজ সহজভাবে ও দ্রুততার সঙ্গে করতে এবার ডাক বিভাগের সঙ্গে মউ (MoU) সাক্ষর করেছে স্বাস্থ্যদপ্তর। 

ই-কেওয়াইসি প্রক্রিয়ায় দ্রুততা আনতে পদক্ষেপ সরকারের

রাজ্যে প্রায় ১ কোটি ৪ লক্ষ উপভোক্তা ইতিমধ্যেই ই-কেওয়াইসি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। পশ্চিমবঙ্গ সরকার ৬ কোটিরও বেশি মানুষকে আয়ুষ্মান ভারতের আওতায় আনার উদ্যোগ নিচ্ছে। এই বিপুল সংখ্যক উপভোক্তার ই-কেওয়াইসি প্রক্রিয়াও যাতে তাড়াতাড়ি শেষ হয়, তাই ডাক বিভাগের সঙ্গে চুক্তি করেছে রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তর। আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে প্রত্যেক সুবিধাভোগীকে নির্দিষ্ট একটি নম্বর দেওয়া হয়। আর ই-কেওয়াইসি করার ক্ষেত্রে ওই নম্বরের প্রয়োজন। আশা কর্মীদের (ASHA Worker) মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি আয়ুষ্মান ভারতের ফর্ম পাঠানো হচ্ছে। এই ফর্মের থাকছে ওই নম্বর। 

আরও পড়ুন: পড়াশোনায় ক্ষতি পড়ুয়াদের! রাজ্যে ফের চালু হল মর্নিং স্কুল..

পশ্চিমবঙ্গ আশা কর্মী ইউনিয়নের রাজ্য সম্পাদিকা ইসমত আরা খাতুন জানিয়েছেন, যে ব্যক্তি আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সুবিধা পাবেন, তাঁদের নামের তালিকা ও ফর্ম প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশা কর্মীদের পাঠানো হয়েছে। তাঁরা উপভোক্তার বাড়ি গিয়ে সেই ফর্ম পূরণ করিয়ে আনছেন। ইতিমধ্যেই কাজে অনেকটা অগ্রসর হয়েছেন তারা। তবে সমস্যা হচ্ছে অন্য জায়গায়।  ই-কেওয়াইসি করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি আশা কর্মীদের দেওয়া হলেও, তাঁদের প্রশিক্ষণ সেভাবে হয়নি। ফলে বহু কর্মী গ্রাহকের বাড়ি যাওয়া সত্ত্বেও ই-কেওয়াইসি করাতে পারছেন না। 

এছাড়া, যে সরকারি পোর্টালটি এই কাজের জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে, সেটিতেও একাধিক সমস্যা রয়েছে। অনেক জায়গায় নেটওয়ার্কের সমস্যা হচ্ছে। ফলে সময় নষ্ট হচ্ছে, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই গ্রাহকের ই-কেওয়াইসি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে না। ইসমত আরা খাতুন এও জানান যে, আশা কর্মীদের কাজ মূলত গর্ভবতী মহিলা, শিশু ও পরিবারের সদস্যদের সামগ্রিক স্বাস্থ্য ঠিক রয়েছে কিনা, তা নজরদারি করা। এই বিষয়েই তাদেরকে ট্রেনিং দেওয়া হয়। কিন্তু বর্তমানে তাঁদের যে দায়িত্ব দেওয়া হয়, তার প্রশিক্ষণ তাঁরা সঠিকভাবে পাননি। এই সমস্যাটি ইতিমধ্যেই সরকারকে জানিয়েছেন আশা কর্মীরা, এমনকি প্রতিবাদও করেন। বিকল্প ব্যবস্থা হিসাবে ডাকঘরের সঙ্গে চুক্তি করার যে দাবি তাঁরা জানিয়েছিলেন, সেটিকেই এখন মান্যতা দেওয়া হয়েছে বলে খুশি আশা কর্মীরা।

আরও পড়ুন: হুগলির আরও এক রুটে চালু নতুন সরকারি বাস পরিষেবা, জেনে নিন সময়সূচি ও যাত্রাপথ

প্রসঙ্গত, এখন ন্যাশনাল রুরাল লাইভলিহুড মিশন (NRLM)-এর আওতায় থাকা কর্মীরাও গ্রাহকদের ই-কেওয়াসি করাবেন জানা গেছে।  ডাক বিভাগের পোস্টমাস্টার জেনারেল (Mail And Business Development) ঋজু গঙ্গোপাধ্যায় ব্যাখ্যা করেন, উপভোক্তারা তাঁদের আয়ুষ্মান ভারতের নির্দিষ্ট নম্বরটি নিয়ে আসবেন পোস্ট অফিসে। সঙ্গে থাকতে হবে নিজস্ব মোবাইল ও আধার কার্ড। ডাক বিভাগের কর্মীরা ওটিপির (One Time Password) মাধ্যমে ই-কেওয়াইসি যাচাই করবেন। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত ডাকঘরেই এই সুবিধা পাওয়া যাবে। পোস্ট অফিসে কর্মীদের ইতিমধ্যেই এর জন্যে প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। পোস্টমাস্টারদের মোবাইলে নির্দিষ্ট সফ্টওয়্যার ডাউনলোড করা থাকবে। এই কাজগুলি শেষ হলেই পরিষেবা চালু হয়ে যাবে। জানা যাচ্ছে গ্রামীন এলাকার ব্রাঞ্চ পোস্ট অফিসগুলিতেও মিলবে এই পরিষেবা।