‘২০ কোটি হাতবদল’, ED-র হাতে গ্রেফতার হওয়া IPAC ডিরেক্টর ভিনেশ চান্ডেলকে চেনেন?

Published:

IPAC Director Vinesh Chandel

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: হাতে বাকি আর এক সপ্তাহ, এরপরেই রাজ্য জুড়ে শুরু হতে চলেছে ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026)। এমতাবস্থায় রাজ্যে কয়লা পাচারকাণ্ডের তদন্তে উঠে এল এক নতুন মোড়! দিল্লি থেকে IPAC-এর ডিরেক্টর ও সহ প্রতিষ্ঠাতা ভিনেশ চান্ডেলকে (IPAC Director Vinesh Chandel) গ্রেফতার করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ED। অভিযোগ কয়লা পাচার-মামলায় বেআইনি লেনদেন করতেন তিনি। জানা গিয়েছে আজই আদালতে পেশ করা হবে তাঁকে।

গ্রেপ্তার IPAC ডিরেক্টর ভিনেশ চান্ডেল

রাজ্যে কয়লা পাচার মামলার তদন্ত নিয়ে শুরু থেকেই চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি ও সিবিআই। আর এবার সেই কয়লা পাচার মামলাতেই গতকাল অর্থাৎ সোমবার, দিল্লি থেকে গ্রেপ্তার করা হল ভোটকুশলী সংস্থা IPAC এর অন্যতম ডিরেক্টর ভিনেশ চান্ডেলকে। তাঁর বিরুদ্ধে ২০ কোটি বেআইনি আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। প্রসঙ্গত, ইডি আধিকারিকরা জানিয়েছেন, অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইনে চান্ডেলকে গ্রেপ্তার করে নিজেদের হেফাজতে রাখা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার তাঁকে আদালতে হাজির করানো হবে। এর আগে ২ এপ্রিল চান্ডেলের দিল্লির ঠিকানায় হানা দিয়েছিল ED। সেই সময় বেশ কিছু নথিপত্রও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল।

কে এই ভিনেশ চান্ডেল?

দিল্লিতে ভিনেশ চান্ডেলের বাড়ি ছাড়াও, বেঙ্গালুরু এবং মুম্বইয়ে আই-প্যাকের আরেক সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক ঋষি রাজ সিংয়ের বাসভবন রয়েছে। গত ২ এপ্রিল সেখানেও তল্লাশি করে কেন্দ্রীয় সংস্থা। আসলে ভিনেশ চান্ডেলও ভোটকুশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন IPAC সংস্থায়। তিনি ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটির সহ-প্রতিষ্ঠাতাও বটে। প্রশান্ত কিশোর, প্রতীক জৈন এবং ঋষিরাজ সিং এক সঙ্গে আই-প্যাক তৈরি করেন। তিনি রাজ্যে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী প্রচার ও কৌশলে স্ট্যাটেজি ঠিক করায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন। কিন্তু আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগেই এবার তাঁকে কয়লা কাণ্ডে গ্রেফতার হতে হল।

ED-IPAC মামলা

কয়লা পাচার মামলার তদন্তেই গত ৮ জানুয়ারি তৃণমূলের ভোটকুশলী সংস্থা IPAC-এর আরেক কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়ি ও সেক্টর ফাইভে IPAC-এর অফিসে তল্লাশি চালিয়েছিল ED! এদিকে সেই তল্লাশি অভিযান চলাকালীনই সেখানে ঢুকে নথি নিয়ে বেরিয়ে আসেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই নিয়ে শুরু হয় আরেক ঝামেলা। কেন্দ্রীয় সংস্থার কাজের মাঝে এরকম বাঁধা দেওয়ায় মামলার জল গড়ায় সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। জানা গিয়েছে বুধবার সুপ্রিম কোর্টে আইপ্যাক মামলার শুনানি আছে। এদিকে IPAC এর ২ কর্তা প্রতীক জৈন ও ঋষিরাজ সিংকে অনেক আগেই দিল্লির অফিসে তলব করে নোটিস দেওয়া হয়েছে। ৩০ এপ্রিলের পরে হাজিরা দিতে চেয়ে দিল্লি হাইকোর্টে যান তাঁরা। আগামী ১৭ এপ্রিল দিল্লি হাইকোর্টে সেই মামলার শুনানি রয়েছে।

আরও পড়ুন: ভোটের আগে ভবানীপুরে ধুন্ধুমার, ব্যানার ছেঁড়া ঘিরে তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষ

ইডির অভিযোগ, বাংলায় কয়লা পাচারে প্রায় ২০ কোটি টাকা হাওয়ালার মাধ্যমে হাতবদল হয়েছিল। তদন্ত চলছে আরও একাধিক তথ্য প্রকাশ্যে আসতে চলেছে। এদিকে নির্বাচনের প্রাক্কালে ভিনেশকে গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গে রাজনৈতিক বিতর্ক চরম আকার নিয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন যে, “ভোটের মাত্র ১০ দিন আগে ভিনেশ চান্ডেলের গ্রেফতারি উদ্বেগজনক। রাজ্যে যখন সুষ্ঠু এবং অবাধ ভোটের দিকে এগিয়ে যাওয়ার কথা, তখন এই পদক্ষেপ একটা অন্য বার্তা দিচ্ছে। আসলে এটা গণতন্ত্র নয়, ভয় দেখানো।”