বাসের পর ভোটের কাজে নেওয়া হবে সাধারণের মোটরবাইক! কমিশনের সিদ্ধান্তে বিতর্ক

Published:

Election Commission Of India

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রাজ্যে সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন (West Bengal Election 2026) প্রক্রিয়া করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission Of India)। তাই তো ভোটের আগে কর্মীদের জন্য বাস, মাঝারি বা ছোট গাড়ি নিয়ে নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। ফলস্বরূপ এক দিকে যখন গণতন্ত্রের উৎসবের প্রস্তুতি তুঙ্গে, অন্য দিকে তখন রাজপথে কার্যত অসহায় অবস্থায় রয়েছে সাধারণ মানুষ। আর এই আবহে কমিশনের নজর পড়লেও সাধারণের মোটরবাইকের (Motorcycle) ওপর। অর্থাৎ এ বার ভোটের কাজের জন্য প্রয়োজনে রাস্তা থেকে বাইকও তোলা হবে।

মোটরবাইক তোলার ইচ্ছা কমিশনের

রাজ্যে শান্তিপূর্ণ ভোট হওয়ার জন্য গলি বা ঘিঞ্জি এলাকায় অবস্থিত বুথগুলির ক্ষেত্রেও করা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কমিশনের তরফে। জানা গিয়েছে, ওই সব এলাকায় অশান্তি হলে পুলিশ যাতে দ্রুত সেখানে পৌঁছতে পারে, তার জন্য এবার মোটরবাইক ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে তদারকির ক্ষেত্রে বাইক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও দাবি করেছিল CRPF। আসলে এক্ষেত্রে স্থানীয় পুলিশের কিছু বাইক তারা ব্যবহার করলেও তা পর্যাপ্ত নয় বলে মনে করছেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর আধিকারিকরা। আর তাই এবার কমিশন সাধারণ মানুষের থেকে নোটিস দিয়ে সাময়িক ভাবে মোটরবাইক তোলার ছাড়পত্র দিয়েছে।

ক্ষতিপূরণ পাবেন মালিকরা

ভোট কর্মী এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর যাতায়াতের জন্য যেভাবে বেসরকারি বাস রিকুইজিশন বা ‘অধিগ্রহণ’ করা হচ্ছে, তাতে শহরের পরিবহণ ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে গত শনিবার কমিশন নোটিশ জারি করেছিল। সেখানে বলা হয়েছিল যে এবার ভোটের কারণে সাধারণের মোটর বাইক অধিগ্রহণ করা হতে পারে। আর তাই নিয়ে খানিক ক্ষুব্ধ আমজনতা। যদিও রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, ভোটের কারণে মোটরবাইক নেওয়া হলে পরিবহণ দপ্তরের বেঁধে দেওয়া দরে ক্ষতিপূরণ পাবেন মালিকরা। ইতিমধ্যেই পরিবহণ দপ্তরের থেকে হিসেবও চেয়ে পাঠানো হয়েছে।

এলাকা তদারকির জন্য বাইকের চাহিদা বাড়ছে

আসলে নির্বাচনের সময় ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ছোট ছোট ঘিঞ্জি এলাকায় পুলিশের বড় গাড়ি বা PCR ভ্যান পৌঁছনো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে, তাই এই সিদ্ধান্ত। যদিও আজ, বৃহস্পতিবার প্রথম দফা নির্বাচনের আগে, বুধবার সন্ধে পর্যন্ত কোনও জেলা থেকেই কমিশনের বাইক তোলার খবর পাওয়া যায়নি। তাই আপাতত স্থানীয় পুলিশের বাইকই ব্যবহার করে সরু গলির বুথে পৌঁছচ্ছে CRPF। তবে দ্বিতীয় দফার ভোটের সময় কলকাতা ও লাগোয়া শহরতলিতে সরু গলিতে ঢুকতে সিআরপিএফের কাছে বাইকের চাহিদা বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: মায়ের আশীর্বাদ নিয়ে নন্দীগ্রামে ভোট দিতে শুভেন্দু, একাধিক এলাকায় EVM-র সমস্যা

পরিবহণ দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্বাচনী কাজের জন্যে শহর থেকে প্রায় ৯০০টি বেসরকারি বাস তুলে নেওয়া হয়েছে। শিয়ালদহ, বেলেঘাটা, হাওড়া, এয়ারপোর্ট এবং দক্ষিণ কলকাতার গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলিতে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকেও বাসের দেখা মিলছে না। উল্টোডাঙা–সেক্টর ফাইভ, উল্টোডাঙা–নিউ টাউন, উল্টোডাঙা–রুবির মতো রুটে যে দু-একটি বাস আসছে, তাতে কোনো জায়গা নেই। এই অবস্থায় সাধারনের মোটর বাইক নিয়ে নেওয়া হলে নিত্য যাতায়াতে মুখ থুবড়ে পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।